কোয়েল পাখি কত বছর বাঁচে - কোয়েল পাখি দিনে কয়টি ডিম দেয়? বিস্তারিত জেনে নিন?

আজকে আমরা জানবো যে পাখি পালনের ক্ষেত্রে এই কোয়েল পাখি কত বছর বাঁচে ও কিভাবে তাদেরকে লালন-পালন করতে হয়। ও তার সাথে সাথে এটাই জানবো যে কোয়েল পাখি দিনে কয়টি ডিম দেয় ও কোন জাতের পাখি বেশী ডিম দেয়। আসুন জানি?

ভূমিকাঃ

কোয়েল পাখি একটি নরম ও ছোট পাখির মধ্য পড়ে। এই পাখি সাধারণত আপনি ছোট খাট হাট বাজারে পেয়ে যাবেন। এই পাখি মানুষ নিজের বাড়িতে পোষার জন্য কিনে থাকে বাজার থেকে। এই পাখি পোষতে হলে আপনাকে কিছু প্রদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

কোয়েল-পাখি-কত-বছর-বাঁচে
কোয়েল-পাখি-কত-বছর-বাঁচে      
তাই আসুন জেনে রাখি যে, কোয়েল পাখি পালন প্রদ্ধতিতে এই কোয়েল পাখি কত বছর বাঁচে ও কিভাবে তাদের যত্ন নেওয়া যায়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে কোয়েল পাখি দিনে কয়টি ডিম দেয় ও বেশী ডিম কোন জাতের কোয়েল পাখি দেয়। নিম্নে বিস্তারিত.........।

কোয়েল পাখি কত বছর বাঁচেঃ

কোয়েল পাখি সাধারণত ২ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। ভালো যত্ন, পরিষ্কার পরিবেশ, পুষ্টিকর খাবার ও রোগমুক্ত অবস্থায় যেসব কোয়েল থাকে। সেসব কোয়েল ১০-১১ বছর প্রর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। কেননা বাইরের তুলনায় বন্দী কোয়েল ভালভাবে খাবার, ও সেবা পেয়ে থাকে। তবে বাণিজ্যিক খামারে পালন করা কোয়েলের আয়ু তুলনামূলক কম হয়। কারণ, সেখানে তারা দ্রুত ডিম পাওয়ার আসায় ও মাংসের জন্য ব্যবহৃত করে থাকে।

আরো পড়ুনঃ কিভাবে আপনি চিনা হাঁস সহজে চিনবেন ও তাদের চাষাবাদ করবেন জেনে রাখুন?

আবার অনেক সময় দেখা যায় যে ঠিকমতো যত্ন না পেলে রোগ, হাঁপানি পরিবেশগত সমস্যার কারণে কোয়েলের আয়ু আরও কমে যায়। তাই কোয়েল ভালোভাবে বাঁচাতে হলে নিয়মিত পরিচর্যা আর পরিষ্কার পরিবেশ খুব জরুরি।

কোয়েল পাখি দিনে কয়টি ডিম দেয়ঃ

কোয়েল পাখি সাধারণত প্রতিদিন ১টি করে ডিম দেয়। ভালো জাত, সঠিক খাবার, পরিষ্কার পরিবেশ আর পর্যাপ্ত আলো (দিনে ১৪–১৬ ঘণ্টা) পেলে একটি সুস্থ মাদী কোয়েল প্রায় প্রতিদিনই ডিম দিতে পারে সুস্থ্য সহকারে। বাস্তবে হিসাব করলে, প্রতি ১০টি কোয়েলের মধ্যে গড়ে ৭–৯টি ডিম প্রতিদিন পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ কিভাবে আপনি সহজে মাছ চাষের জন্য কিভাবে পুকুর তৈরী করবেন জেনে নিন?

তবে খাদ্য, তাপমাত্রা, আলো কম হলে বা কোয়েল অসুস্থ হলে ডিম দেওয়ার হার কমে যেতে পারে। তাই কোয়েল পাখি ভালভাবে যত্ন নিলে তারা জীবনের শেষ মুর্হূত থাকা কালীন ডিম দেওয়ার ক্ষমতা থাকে।

কোয়েল পাখি কত দিনের মধ্য ডিম পারেঃ

কোয়েল পাখি সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই ডিম পাড়া শুরু করে। ভালো খাবার, পরিষ্কার পরিবেশ, সঠিক তাপমাত্রা আর পর্যাপ্ত আলো (দিনে ১৪–১৬ ঘণ্টা) পেলে কিছু কোয়েল ৩৫ দিনেও ডিম দিতে শুরু করতে পারে এই রকম অনেক জাতের কোয়েল আছে। এই কোয়েল পাখি একবার ডিম দেওয়া শুরু করলে নিয়মিত ভাবে ডিম দিতে থাকে।

কোয়েল-পাখি-কত-দিনের-মধ্য-ডিম-পারে

তবে যত্ন কম হলে বা খাবারে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে ডিম পাড়া শুরু হতে ৫০ দিনও লেগে যেতে পারে। তাই কোয়েল দ্রুত ডিম দিতে চাইলে আপনার ভাল করে পাখির যত্ন নিতে হবে। তাহলে আপনি একজন ভাল কোয়েলদাতা হতে পারবেন। 

কোন জাতের কোয়েল পাখি বেশি ডিম দেয়ঃ

সবচেয়ে বেশি ডিম দেয় জাপানি কোয়েল ও কোটার্নিক্স কোয়েল। এই জাতগুলো বাংলাদেশে ও বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় লেয়ার কোয়েল হিসেবে পরিচিত। একটি সুস্থ জাপানি কোয়েল বছরে গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত ডিম দিতে পারে, যা অন্য সব জাতের তুলনায় অনেক বেশি। এই কোয়েল খুব দ্রুত বড় হয়, মাত্র ৪০–৪৫ দিনের মধ্যেই ডিম পাড়া শুরু করে, আর নিয়মিত ডিম দেয়।

আরো পড়ুনঃ কিভাবে আপনি মুরগী পালনের জন্য ভালভাবে খামার তৈরি করবেন জেনে নিন?

এ ছাড়া আরো কোয়েল আছে যেমন, ব্রিটিশ,ফারাও, রেঞ্জ, ইংলিশ, গোল্ডেন, ম্যানচুরিয়াল ইত্যাদি। এইসব কোয়েল পাখির ভালকরে যত্ন নিলে তারা ডিম পাড়ার পরিকল্পনায় সবার থেকে আগে থাকে।

কোয়েল পাখি পালন প্রদ্ধতিঃ

কোয়েল পাখি পালন খুব সহজ, কম জায়গায় করা যায় আর অল্প সময়েই ভালো লাভ পাওয়া সম্ভব। কোয়েল পাখি পালনের জন্য প্রথমেই শুকনো, বাতাস চলাচল ভালো এমন জায়গায় খাঁচা বা ঘর তৈরি করতে হয়। খাঁচা পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে রোগ না ছড়ায়। বাচ্চা কোয়েলের জন্য প্রথম ৭–১০ দিন ব্রুডিং ব্যবস্থা করে গরম ভাব জাইগায় রাখতে হবে। নিয়মিত পরিষ্কার পানি ও উন্নত মানের কোয়েল ফিড দিতে হবে, কারণ খাবারের ওপরই ডিম ও সুস্থ্যতা নির্ভর করে।

আরো পড়ুনঃ হাঁস কখন পালন করতে হয় ও কোন মৌসুমে হাঁস খামার বা পালন করবেন জেনে নিন?

কোয়েলকে দিনে ১৪–১৬ ঘণ্টা আলো দিলে ডিম উৎপাদন ভালো হয়। রোগ প্রতিরোধের জন্য সময়মতো ভ্যাকসিন, ভিটামিন ও খোপ পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি। ঠিকভাবে যত্ন নিলে কোয়েল ৪০–৪৫ দিনের মধ্যেই ডিম পাড়া শুরু করে এবং ব্যবসা হিসেবে খুব দ্রুত লাভ দেওয়া শুরু করে।

  • কোয়েল পাখি পালন প্রদ্ধতিঃ

  1. কোয়েল পাখি পালন করার জন্য একটি পরিষ্কার জাইগা বা খাঁচা লাগবে।
  2. একটি খাঁচায় আপনি চাইলে ৬-৮টা কোয়েল পাখি রাখতে হবে।
  3. কোয়েল পাখির বাচ্চাকে নিজের মত করে পালন ও তার পালনের জন্য ব্রডিং দিতে হবে।
  4. কোয়েল পাখিকে সঠিক পরিমাণে খাবার দিতে হবে ও উষ্ণতায় রাখতে হবে।
  5. মনে রাখবেন, বাচ্চা কোয়েলকে কখনো বড় কোয়েল পাখির সাথে রাখবেন না।
  6. বড় কোয়েল পাখির জন্য আলাদা খাঁচা বা জাইগা রাখবেন।
  7. খাঁচা তৈরি করার সময় খাঁচা এমন ভাবে বানাতে হবে,যেন কোয়েল পাখি আরামে যাওয়া আসা করতে পারে।
  8. পাখিকে দেওয়া পানির পাত্র যেন সব সময় পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন থাকে। সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
  9. খাঁচাতে পাখি পোষলে রোগ বালায় কম হয়। তাই খাঁচাতে কোয়েল পাখি পোষা বেস্ট।
  10. কোন কোয়েল পাখি যদি ঝুমায় বা হাঁপানি রোগের লক্ষণ দেয় যায়। তাহলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা দিবেন।
  11. কোয়েলের ডিম সংগ্রহ করার জন্য ভাল ও সুস্থ্য জাইগা বেঁছে নিবেন।

এই প্রদ্ধতি আপনি মেনে চললে দেখবেন আপনি ভালভাবে কোয়েল পাখি পোষা শিখে গেছেন। ও এই কোয়েল পাখি থেকে আপনার একটা ভাল পরিমাণে টাকা আসছে।

কোয়েল পাখি দিনে কত গ্রাম খাবার খায়ঃ

কোয়েল পাখি প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ গ্রাম খাবার খায়। বয়স অনুযায়ী এই পরিমাণ একটু কম–বেশি হতে পারে। যেমন, ছোট কোয়েল বাচ্চা প্রথম দিকে দিনে প্রায় ১০–১৫ গ্রাম খাবার খায়, আর ডিম দেওয়া শুরু করলে প্রতিদিন ২৫ গ্রাম পর্যন্ত খাবারের খেতে পারে। কোয়েল পাখি বাণিজ্যিকভাবে কোয়েল ফিড, ও শস্য জাতীয় খাবার বেশী খেতে পছন্দ করে নিয়মিত পরিমিত খাবার, পরিষ্কার পানি আর সঠিক পুষ্টি দিলে কোয়েল সুস্থ থাকে এবং ডিম দেওয়ার হারও ভালো থাকে।

কোয়েল পাখির ঔষধ তালিকাঃ

কোয়েল পাখি সুস্থ রাখতে হলে কিছু প্রয়োজনীয় রোগ ও সেগুলোর ব্যবহৃত ওষুধের নাম জানা থাকাটা খুবই দরকার। নিচে সহজভাবে কোয়েল পাখির সাধারণ রোগ ও ঔষধ তালিকা দেয়া হলো—এটা খামারি বা নতুন পালনকারীদের জন্য খুবই কাজে দেবে নিম্নে দেখুন?

  •  দুর্বলতা, পাতলা পায়খানাঃ

  1. মেট্রোনিডাজল
  2. সালফাডিমিডিন
  3. ওরস্যালাইন + ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স

  • সর্দি–কাশি ও শ্বাসকষ্টঃ

  1. ডক্সিসাইক্লিন
  2. টাইলোসিন
  3. ভিটামিন সি

  • কৃমি রোগঃ

  1. অ্যালবেনডাজল
  2. লেভামিসল

  • রানিক্ষেত / নিউক্যাসল রোগঃ

  1. নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই
  2. প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন (খুব জরুরি)

  • ভিটামিনের ঘাটতিঃ

  1. বি-কমপ্লেক্স
  2. মাল্টিভিটামিন
  3. ভিটামিন ই + সেলেনিয়াম

  • সংক্রমণজনিত জ্বর ও ইনফেকশনঃ

  1. এনরোফ্লক্সাসিন
  2. সিপ্রোফ্লক্সাসিন

  • গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাঃ

  1. নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ বেশি ডোজে দেওয়া যাবে না
  2. সবসময় ওষুধের সাথে পরিষ্কার পানি দিতে হবে
  3. অসুস্থ কোয়েলকে আলাদা করে রাখতে হবে

এইভাবে কোয়েল পাখি লালন পালন করলে ও সঠিক সময় চিকিৎসা দিলে কোয়েল পাখি সব সময় সুস্থ্য সবল থাকে। পাখি সুস্থ্য থাকলে ডিমও ভাল পাওয়া যায়।

লেখকের মক্তব্যঃ

আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন পাখি লালন পালনের ক্ষেত্রে কোয়েল পাখি কত বছর বাঁচে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে কোয়েল পাখি দিনে কয়টি ডিম দেয়।

প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।

আরো কিছু জানতে বা শিখতে চাইলে ভিজিট করুন.................. www.stylishsm.com



( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।

comment url