হাঁস পালনের উপযুক্ত সময় - হাঁস বড় হতে কত সময় লাগে? বিস্তারিত জেনে নিন?
আজকে আমরা জানবো যে পশু-পালনের জন্য হাঁস পালনের উপযুক্ত সময় কখন হয়ে থাকে ও মৌসমে হাঁস চাষ ভাল হয়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে হাঁস বড় হতে কত সময় লাগে ও তাদের গাঁয়ে পুষ্টি কখন ধরে। আসুন জেনে রাখি?
ভূমিকাঃ
আজকের দিনে কমবেশী মানুষ সবাই ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু সময় সময় তারা ভেবে পাই না যে কিভাবে কি করবো ও কোথায় থেকে শুরু করবো। হাঁসের ব্যবসা করতে হলে আপনাকে আগে কিছু সাজেশোন নিতে হবে যারা হাঁসের ব্যবসা করে।
![]() |
| হাঁস-পালনের-উপযুক্ত-সময় |
হাঁস পালনের উপযুক্ত সময়ঃ
হাঁস পালনের উপযুক্ত সময় তেমন নিধারিত নেই। কিন্তু সাধারণভাবে বর্ষা শুরুর দিক আর শীতের শেষ ভাগকে ধরা হয় হাঁস পালনের দিক। এই সময়ে আবহাওয়া তুলনামূলক গরম-ঠান্ডা থাকে, পানির ব্যবস্থা সহজে পাওয়া যায় আর খাবারের অভাবও কম থাকে। বর্ষায় পানিতে প্রচুর ছোট মাছ, কীট-পতঙ্গ আর ন্যাচারাল খাবার পাওয়া যায়। যা হাঁসের গ্রোথকে পুষ্টি ভরা ও সুস্থ্য রাখে।
এছাড়া শীত শেষে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, হাঁসের বাচ্চা তখন ঠান্ডাজনিত রোগে কম আক্রান্ত হয়। হাঁস পালনের ক্ষেত্রে আপনাকে ধর্য্য ও সময় দিতে হবে। একটা হাঁস ডিম দিতে সময় লাগায় প্রায় ৬ থেকে ৭ মাস। কিন্তু একবার আপনি হাঁস পালনের মান-বন্টন বুঝে নিলে আপনি খুব সহজে এই হাঁসের ব্যবসায় দাঁড়িয়ে যাবেন।
হাঁস বড় হতে কত সময় লাগেঃ
হাঁস বড় হতে সাধারণত ২ থেকে ৪ মাস সময় লাগে, তবে এটা পুরোপুরি নির্ভর করে তুমি কোন জাতের হাঁস পালন করছো আর কীভাবে যত্ন নিচ্ছো। দেশি হাঁস একটু আসতে আসতে বড় হয় ওদের পুরো সাইজ পেতে ও বেড়ে ওঠতে ৬-৯ মাসও লেগে যায়। কিন্তু খাকি ক্যাম্পবেল বা অন্যান্য ফাস্ট-গ্রো জাত হলে ৩–৪ মাসেই মোটামুটি বড় হয়ে যায়।
প্রথম দিককার খাবার, পরিষ্কার পানি আর নিরাপদ জায়গা এই তিনটা যদি ঠিক থাকে, তাহলে হাঁসের গ্রোথ একদম তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে। মোট কথা, ধৈর্য রাখলে কয়েক মাসের মধ্যেই হাঁস একদম মার্কেট-রেডি হয়ে যায়। তারপরে আপনার ব্যবসা শুরু।
হাঁস কি ৩ মাসে ডিম পাড়েঃ
হাঁস সাধারণত ৩ মাসে ডিম পাড়া শুরু করে না। বেশিরভাগ হাঁসের ডিম পাড়া শুরুর স্বাভাবিক সময় হলো ৫ থেকে ৬ মাস বয়সে। তবে কিছু ফাস্ট-গ্রো জাত যেমন খাকি ক্যাম্পবেল বা ইন্ডিয়ান রানার হাঁস ভালো খাবার ও পরিবেশ পেলে ৪ মাসের কাছাকাছি ডিম দেওয়া শুরু করতে পারে। কিন্তু ৩ মাসে ডিম দেওয়া প্র্যাকটিক্যালি খুবই রেয়ার এবং স্বাভাবিক নয়।
তাই কোনো হাঁস যদি ৩ মাসে ডিম দেয়। তাহলে সেই ডিম খাওয়ার যোগ্য হয় না। আগে হাসকে স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠতে দিন তারপরে তার ডিমের উপভোগ করুন।
হাঁস পালনের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রদ্ধতি কোনটাঃ
হাঁস পালনের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো “অর্ধ-ঘের বা সেমি-ইনটেনসিভ পদ্ধতি”। যাকে এক কথায় বলা হয় উন্মুক্ত ভাবে হাঁস পালন। এই পদ্ধতি এখন গ্রামের লোকজন থেকে শুরু করে নতুন ফার্মারদের মাঝেও সুপার হিট, ও সবাই ব্যবহার করে। কারণ এতে হাঁসদের খোলা জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। আবার খাবার, পানি, আশ্রয়ের সঠিক কন্ট্রোলও থাকে।
এতে হাঁসরা প্রাকৃতিকভাবেই খাবার পায় (যেমন পোকামাকড়, ছোট মাছ), ফলে খরচ কমে যায়। আর নিয়মিত খাবার আর হাইড্রেশন মিললে হাঁস তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে ও ডিম উৎপাদন ভাল হয়। তাই কম খরচ, কম ঝামেলা আর বেশি লাভ এই তিন জিনিসের কম্বো থাকার কারণেই এই পদ্ধতিটাই সবচেয়ে জনপ্রিয়।
ডিম পাড়া হাঁসের খাদ্য তালিকাঃ
হাঁস পালনের সময় মনে রাখবেন যে হাঁসকে চাইলে আপনি সব ধরনের জিনিস খাওয়াতে পারবেন না। তাদের পুষ্টির জন্য কিছু খাবার নিধারিত করা আছে। আপনি সেগুলো খাওয়ালে আপনার পালনের হাঁস খুবই ভাল ও পুষ্টি সহকারে বেড়ে ওঠবে। ডিম পাড়া হাঁসের খাদ্য তালিকা একটু কেয়ারফুলি সাজাতে হয়, কারণ তাদের খাবারেই ডিমের পরিমাণ আর কোয়ালিটি দুটোই নির্ভর করে। তাই ব্যালান্সড খাবার দিলে ডিমও বেশি, হাঁসও হেলদি হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
শস্যদানাঃ ভাঙা চাল, গম, ভুট্টা এগুলো এনার্জি দেয়, হাঁসকে সুস্থ্যবান রাখে।
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারঃ সরিষার খৈল,সয়াবিন মিল, মাছের গুঁড়া বেশি ডিম পেতে হলে এই সব প্রোটিন খাবার দিতে হবে।
খনিজ ও ক্যালসিয়ামঃ ঝিনুকের গুঁড়া, চুন, ডিমের খোলার গুঁড়া, খৈল, ভুট্টা ভাঙ্গা, এই সব জিনিস খাবারের সাথে মেশানো হয়।
হাঁসের ডিম কত দিনে ফুটেঃ
হাঁসের ডিম সাধারণত ২৮ দিনের মধ্যে ফুটে বাচ্চা বের হয়। তবে কয়েকটা বিষয় টাইম একটু এদিক-সেদিক করতে পারে। কেননা হাঁসের প্রজাতি বিভিন্ন হয়ে থাকে, দেশি হাঁসের ডিম সাধারণত ২৭–২৯ দিন লাগে। খাকি ক্যাম্পবেল বা পেকিন টাইপ হাঁসের ডিমও প্রায় ২৮ দিন সময় নেয় বাচ্চা ফুটাতে। হাঁসের বাচ্চা ফুটানোর জন্য আপনাকে তাপমাত্রা সঠিক পরিমাণে রেখে ডিমে সঠিক উষ্ণতা (প্রায় 37.5°C) রাখতে হবে।
তাপ কম-বেশি হলে ফুটতে সময় বাড়ে বা সমস্যা হয়। যেখানে ডিম থাকে বাচ্চা ফুটানোর জন্য সেখানে যেন বেশি চেচামেচি বা সাইন্ড না থাকে। বেশি নড়াচড়া বা ঠান্ডা লাগলেও সমস্যা হয় বাচ্চা ফুটতে। আবার ইনকিউবেটরে আর্দ্রতা ঠিক না থাকলে ডিম ফুটতে দেরি হয়। এই সব জিনিস মাথায় রেখে আপনাকে বাচ্চা ফুটাতে হবে।
হাঁসের খামার ব্যবসাঃ
আজকের দিনে হাঁসের খামার ব্যবসা গ্রামের মতো শহরেও দিন দিন অনেক পপুলার হয়ে উঠছে, কারণ এতে ইনভেস্ট তুলনামূলক কম লাগে আর লাভও ভালো আসে। হাঁসের খামার এমন এক ব্যবসা যেখানে কম খরচে দ্রুত লাভ পাওয়া যায়। হাঁস সাধারণত রোগে কম আক্রান্ত হয়, পানি ও স্থানীয় খাবারেই ভালো বেড়ে ওঠে, আর ডিম ও মাংস দু’টোই বাজারে ভালো দামে বিক্রি হয়। তাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এই ব্যবসা বেশ সেফ এবং প্রফিটেবল ধরা হয়। নিম্নে দেখে নিন?
- হাঁসের খামারের সুবিধাঃ
- রোগ কম হয়, মেডিসিন খরচ কম
- ডিম উৎপাদন বেশি
- দেশি খাবার যেমন ধান, গম, ভুট্টা—এগুলোতেই ভালো লালন-পালন হয়ে থাকে।
- পরিচর্যার ঝামেলা কম থাকে
- দ্রুত বিক্রি করে ক্যাশফ্লো পাওয়া যায়।
- হাঁসের খামার শুরু করার ধাপঃ
- একটা ভাল স্থান নির্বাচন করুন।
- পানি আছে এমন জায়গা হলে বেস্ট হয়।
- শুকনো ও বাতাস চলাচল করে এমন পরিবেশ।
- খামার পরিষ্কার ও নিরাপদ রাখতে হবে সব সময়।
- হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহঃ
- ভালো মানের বাচ্চা নিতে হবে।
- লেয়ার (ডিম পাড়া) বা ব্রয়লার (মাংসের) কোনটা করবেন আগে ঠিক করুন।
- খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ
- বাচ্চাদের স্টার্টার ফিড বজায় রাখুন।
- বড় হাঁসের জন্য ডিম পাড়ার ফিড
- পানি পরিষ্কার রাখা জরুরি।
- খামার পরিষ্কার রাখা।
- নিয়মিত জীবাণুনাশক ছিটানো।
- নোংরা পানি জমতে না দেওয়া।
- ইনফেকশন হলে দ্রুত চিকিৎসা।
- বাজারিংঃ
- ডিম, বাচ্চা, মাংস সবই বিক্রি করা যায়।
- হোলসেলার বা লোকাল মার্কেট দুই জায়গায়ই ভালো বিক্রি হয়।
আপনি যদি ১০০টা হাঁস রাখলে প্রতি মাসে ভালো ডিম পেলে ১০–২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে আপনার খরচ কম, তাই লাভ তুলনামূলক বেশি। হাঁসের খামার নতুন উদ্যোক্তা বা ছোট বিনিয়োগে ব্যবসা করতে চাইলে একদম পারফেক্ট অপশন। নিয়ম মেনে চালালে খুব দ্রুত প্রফিট আসতে শুরু করে।
লেখকের মক্তব্যঃ
আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন পশু-পালনের জন্য হাঁস পালনের উপযুক্ত সময় কখন হয় ও কোন মৌসমে হয়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে হাঁস বড় হতে কত সময় লাগে।
প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।
আরো কিছু জানতে বা শিখতে চাইলে ভিজিট করুন.................. www.stylishsm.com
( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )


স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।
comment url