ভেড়ার খাবার তালিকা - ভেড়ার রোগ ও চিকিৎসা? বিস্তারিত ভাবে জেনে রাখুন?

আজকে আমরা জানবো যে পশু পালনের ক্ষেত্রে এই ভেড়ার খাবার তালিকা কি কি  হয়ে থাকে ও কিভাবে তাদেরকে খাওয়াতে হয়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে ভেড়ার রোগ ও চিকিৎসা কিভাবে করাতে হয় ও কাদেরকে দিয়ে করাতে হয় ভেড়ার চিকিৎসা? আসুন জানি?

ভূমিকাঃ

আজকের দিনে সকলেই ব্যবসা করতে ইচ্ছুক। কিন্তু তারা বুঝে পাই না যে কোন ব্যবসা করলে তাদের জন্য লাভবান হবে। এই জন্য অনেক মানুষ ব্যবসা করতে চাই না। কিন্তু আপনি যদি একবার মনে সাহস নিয়ে এই ভেড়ার ব্যবসা করতে পারেন। তাহলে দেখবেন যে আপনি অবশ্যই লাভবান হবেন। তার আগে যারা এই ভেড়ার ব্যবসা করে তাদের কাছে গিয়ে একবার পরামর্শ নিবেন।

ভেড়ার খাবার তালিকা
তাই আসুন জেনে রাখি যে ভেড়ার ব্যবসা করার ক্ষেত্রে ভেড়ার খাবার তালিকা কি কি হয়ে থাকে ও তাদেরকে কি খাওয়াতে হয়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানুন যে ভেড়ার রোগ ও চিকিৎসা কিভাবে দূর করতে হয় ও কি কি ঔষুধ খাওয়াতে হয়। নিম্নে বিস্তারিত.........?

ভেড়ার খাবার তালিকাঃ

ভেড়ার সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা তার বৃদ্ধি, উৎপাদন (মাংস, উল, দুধ) ও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে ভেড়ার বয়স ও অবস্থাভেদে খাবার তালিকা দেওয়া হলোঃ

                            সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক ভেড়া (দৈনিক – ৪০-৫০ কেজি ওজন)

খাদ্যের ধরন                                         পরিমাণ                                       মন্তব্য

সবুজ ঘাস                                        ৪-৬ কেজি          নেপিয়ার, বারসিম, লুসার্ন, মাঠের ঘাস

শুকনো খড়/হে                               ১-১.৫ কেজি          গম/ধান/ডালের খড় (ভালো মানের)

দানাদার খাবার                              ২০০-৩০০ গ্রাম          ভেড়ার বৃদ্ধি/উৎপাদনের উপর নির্ভর

খনিজ লবণ ব্লক                             অবাধে লেহন           ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লবণ মিশ্রিত

পরিষ্কার পানি                                     ৩-৫ লিটার                   দৈনিক, বিশেষ করে দানাদার খাওয়ার পর

আপনি চাইলে ভেড়াকে কিছু সংমিশ্রণ করে খাবার দিতে পারেন। যেমনঃ দানাদার খাবার মিশ্রণের নমুনা রেসিপি নিম্নে দেওয়া হলোঃ


  1. ভুট্টা ভাঙা: ৩৫%

  2. গম ভাঙা/চালের কুঁড়া: ২৫%

  3. সয়াবিন/খৈল (সরিষা/তিল): ২০%

  4. গমের ভুসি/চালের তুষ: ১৫%

  5. খনিজ মিশ্রণ: ৩%

  6. লবণ: ২%

  7. ভিটামিন প্রিমিক্স: স্বল্প পরিমাণ (ঐচ্ছিক)

  8. মিশ্রণের পরিমাণ: উৎপাদন অবস্থা অনুযায়ী ২০০-৫০০ গ্রাম/ভেড়া/দিন।

আপনি যদি এই খাবার গুলো দেন তাহলে দেখবেন আপনার ভেড়া খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠবে ও যথেষ্ট পরিমাণে প্রোটিন পাবে।

ভেড়ার রোগ ও চিকিৎসাঃ

ভেড়া পালনে রোগবালাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সময়মতো সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রাণঘাতী ক্ষতি রোধ করে। নিচে ভেড়ার প্রধান রোগগুলো এবং তাদের ব্যবস্থাপনা দেওয়া হলঃ
  • ক্ষুরা রোগ (Foot and Mouth Disease - FMD)
  1. লক্ষণ: জ্বর, মুখে ও খুরে ফোসকা/আলসার, লালা পড়া, খোঁড়ানো।
  2. কোনো সরাসরি ভাইরাসরোধী ওষুধ নেই, সহায়ক চিকিৎসা দিন।
  3. আলসার পরিষ্কার করে পটাশ পারম্যাঙ্গানেট বা বোরিক অ্যাসিড দিয়ে ধুয়ে দিন।
  4. জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল/এনএসএআইডি (ভেটেরিনারির পরামর্শে)।
  5. অ্যান্টিবায়োটিক প্রদাহ রোধে (যদি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়)।
  6. প্রতিরোধ: ৬ মাস পরপর টিকা দিন (FMD ট্রাইভ্যালেন্ট/কোয়াড্রিভ্যালেন্ট)।
  • পিপিআর (Peste des Petits Ruminants - PPR) 
  1. লক্ষণ: তীব্র জ্বর, চোখ-নাক দিয়ে পানি/পুঁজ, মুখে ঘা, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট।
  2. তাত্ক্ষণিক ভেটেরিনারি ডাকুন – মৃত্যুহার ৫০-৯০%।
  3. সহায়ক থেরাপি: স্যালাইন (নিরুদন রোধ), অ্যান্টিবায়োটিক (গৌণ সংক্রমণ রোধ), ভিটামিন।
  4. প্রতিরোধ: বছরে একবার PPR টিকা (প্রতি ভেড়া/ছাগল)।
  • অন্ত্রের কৃমি (Helminthiasis)
  1. লক্ষণ: পাতলা পায়খানা, রক্তশূন্যতা (পালপিড মিউকাস মেমব্রেন), দুর্বলতা, পেট ফোলা।
  2. কৃমিনাশক: আলবেনডাজোল (১০-১৫ mg/kg), ফেনবেনডাজোল, লেভামিসোল।
  3. কৃমির ধরন নির্ভর (গোলকৃমি, ফিতাকৃমি, ফুসকুড়ি) ওষুধ নির্বাচন।
  4. প্রতিরোধ: ৩ মাস পরপর নিয়মিত কৃমিনাশক দিন, চারণভূমি ঘুরিয়ে ব্যবহার করুন।
  • খুরা পচা (Foot Rot)
  1. লক্ষণ: খুর ফুলে লাল হওয়া, পচন, দুর্গন্ধ, খোঁড়ানো।
  2. খুর কেটে/পরিষ্কার করে ১০% ফরমালিন বা কপার সালফেট দিয়ে ধোয়া।
  3. অ্যান্টিবায়োটিক: অক্সিটেট্রাসাইক্লিন/পেনিসিলিন ইনজেকশন বা স্থানিক প্রয়োগ।
  4. প্রতিরোধ: খুর নিয়মিত কাটুন, ভেজা স্থানে না রাখুন, জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাদ্য দিন।

ভেড়া পালন প্রদ্ধতিঃ

ভেড়া পালন একটি লাভজনক ও টেকসই কার্যক্রম ব্যবসা যদি আপনি করতে পারেন। মাংস, উল, দুধ ও চামড়ার জন্য ভেড়া পালন করা হয়। নিচে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ভেড়া পালনের সম্পূর্ণ ধাপগুলো দেওয়া হলো দেখে নিন? আপনাকে সবার আগে কিছু ভেড়ার জাত নির্বাচন করতে হবে যাতে আপনি সঠিক ভেড়া বেঁছে নিতে পারেন।

জাত                                                প্রধান বৈশিষ্ট্য                                   ১১১১উপযোগিতা
মেরিনো                                                 উন্নতমানের উল                           উল উৎপাদন
সুফল্ক                                                মাংস উৎপাদন                           মাংস
ডোরসেট                                                দ্রুত বৃদ্ধি                                           মাংস
ব্ল্যাক বেঙ্গল                                        স্থানীয় অভিযোজন                           মাংস ও চামড়া
রামবুলেট                                        উৎকৃষ্ট উল                                   উল


জাত নির্বাচন হয়ে গেলে এবার আপনাকে ভেড়া রাখার আসন ও জায়গা বেঁছে নিতে হবে। তার জন্য আপনাকে সবার আগে শুকনা, উঁচু, বন্যামুক্ত, ঘাসযুক্ত জমি খুঁজতে হবে। সবার জন্য মাথাপিছু জায়গান রাখবেন। প্রাপ্তবয়স্কের জন্য ১০-১২ বর্গফুট, বাচ্চার জন্য ৫-৭ বর্গফুট। ও মেঝে কংক্রিট বা মাটির সাথে খড় বিছানো ঢালু, যাতে পানি জমে না থাকে। এর সাথে সাথে এই খামারের উচ্চতা প্রায় ৮-১০ ফুট উত্তম বায়ুচলাচল সংযুক্ত রাখতে হবে। ভেড়া পোষার জন্য এই সব জাইগা লাগবে।

ভেড়ারা কি কি খায়ঃ

ভেড়াদের প্রধান খাদ্য হলো বিভিন্ন ধরনের সবুজ ঘাস,  ক্লোভার, শিম, শাকসবজি, পাতা ও শুষ্ক খড়। এরা প্রকৃতিগতভাবে চরনকারী প্রাণী (Grazing Animals) এবং দিনের ৬-৮ ঘণ্টা মাঠে ঘাস চরতে পছন্দ করে। তাদের প্রিয় খাবারের মধ্যে রয়েছে লুসার্ন (আলফালফা), বারসিম, নেপিয়ার ঘাস, প্রাকৃতিক মাঠের ঘাস, গমের খড়, ধানের খড় এবং ডালের খড় (যেমন: খেসারির খড়)।

শুকনো মৌসুমে বা ঘাসের অভাব হলে দানাদার খাবার যেমন ভুট্টা ভাঙা, গম ভাঙা, খৈল, চালের কুঁড়া ও ভুসি মিশ্রিত খাবার দিতে হয়। ভেড়াদের খনিজ ও লবণের চাহিদা পূরণ করতে খনিজ ব্লক বা লবণ চাটা পাথর সরবরাহ করা জরুরি। এছাড়া কৃষি উপজাত যেমন ভুট্টার পাতা, গাজরের টপস, বিভিন্ন সবজির অবশিষ্টাংশও তারা খেতে পছন্দ করে।


তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে বিষাক্ত গাছপালা (ধুতরা, ওলেন্ডার, কিছু বুনো গুল্ম) খাওয়া থেকে বিরত রাখা রাখবেন। ভেড়ার সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি সব সময় উপলব্ধ রাখা অত্যাবশ্যক।

ভেড়া কত মাস পর পর বাচ্চা দেয়ঃ

ভেড়া সাধারণত বছরে ১ - ২ বার বাচ্চা দেয়। বেশিরভাগ ভেড়ার প্রজনন চক্র ৬-৮ মাস পরপর হয়, তবে এটি নির্ভর করে ভেড়ার জাত, বয়স, স্বাস্থ্য ও পরিচর্যার উপর। উন্নত জাতের ভেড়া (যেমন Dorset, Merino) ভালো পরিচর্যায় বছরে দুবার বাচ্চা দিতে সক্ষম। তবে সাধারণভাবে, প্রতি ৮ মাস পরপর (বা বছরে ১.৫ বার) একটি ভেড়া বাচ্চা দেওয়া স্বাভাবিক।


একটি ভেড়া সাধারণত প্রতি বার ১-৩টি (গড়ে ২টি) বাচ্চা জন্ম দেয়। গর্ভধারণকাল প্রায় ১৪৫-১৫৫ দিন (৫ মাস)। সুতরাং, যদি একটি ভেড়াকে ভালো খাদ্য, টিকা ও স্বাস্থ্য পরিচর্যা দেওয়া হয়, তবে তা বছরে একবার নিশ্চিতভাবে এবং অনুকূল অবস্থায় বছরে দুইবার বাচ্চা দিতে পারে।

ভেড়ার পশম কি হয়ঃ

ভেড়ার পশম (উল/লোম) একটি অত্যন্ত মূল্যবান প্রাকৃতিক তন্তু, যা পোশাক, কম্বল, কার্পেট ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। নিচে এর বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার হয়। মেরিনো উল সবচেয়ে নরম, মসৃণ ও উচ্চমানের (তাপ নিরোধক দক্ষ) অন্যান্য জাতের ভেড়া থেকে প্রাপ্ত, অপেক্ষাকৃত মোটা ও শক্ত। কাটার পর প্রাথমিক অবস্থা, চর্বি ও ময়লা মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। তাই কাজে লাগানোর আগে অবশ্যই পরিষ্কার করে নিবেন।

এই ভেড়ার উল আপনি ব্যবহার করে শীতকালে গরম, গ্রীষ্মে শীতলকালে শিত রাখে এমন কাপড় তৈরি করতে পারবেন। পশমের আঁশ স্থিতিস্থাপক ও দীর্ঘস্থায়ী  হয়ে থাকে। যেটা আমরা পড়লে শরীর ও ত্বক শুষ্ক রাখে। এ ছাড়া আপনি চাইলে এই ভেড়ার উল ও পোষম দিয়ে বিভিন্ন ধরণের সুট, সোয়েটার, মাফলার, গ্লাভস, কম্বল, কার্পেট, কুশন কভার, ফেল্ট ফেব্রিক, টুপি, মোজা আঠালো উল তাপ নিরোধক পদার্থ তৈরি করতে পারবেন।

ভেড়ার মাংস খাওয়া কি হালালঃ

হ্যাঁ, ভেড়ার মাংস খাওয়া ইসলামি বিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণ হালাল। ইসলাম অনুযায়ী যেমনঃ গরু, ছাগল, উট ইত্যাদি আল্লাহ্‌র কাছে নিবেদিত তেমনি এই ভেড়া আল্লাহ্‌র কাছে করুল হবে যদি আপনি এই কজ গুলো করে থাকেন। ইসলামিকভাবে জবাই (যবেহ) করতে হবে। ইসলাম অনুযায়ী জবাইকারী মুসলিম হতে হবে ও জবাইয়ের সময় বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলতে হবে। তাহলে আপনার ভেড়া হারাম থেকে হালাল হয়ে যাবে। যার বিনিময়ে আপনি এই ভেড়ার মাংস নিশ্চিত খেতে পারবেন।

ভেড়ার দৈনিক খরচ কত টাকাঃ

ভেড়া লালন পালন করার ক্ষেত্রে তার পিছনে কিছু টাকা ইনভেস্ট করতে হয়। এই জন্য লোকে বলে টাকা থাকলেই টাকা হয়। তার কিছু খরচ নিম্নে হিসাব অনুয়ায়ী দেওয়া হলোঃ

খাদ্যের ধরনঃ                   পরিমাণ (দৈনিক)                আনুমানিক দামঃ       মন্তব্যঃ
সবুজ ঘাস                   ৪-৫ কেজি                       ৫-১০ টাকা          নিজে চাষ করলে খরচ নেই
খড়/শুকনো ঘাস            ১ কেজ                               ২-৪ টাকা
দানাদার মিশ্রণ            ২০০-৩০০ গ্রাম               ৮-১৫ টাকা          ভুট্টা, খৈল, ভুসি মিশ্রিত
খনিজ লবণ/ব্লক            স্বল্প পরিমাণ                       ২-৩ টাকা                  মাসিক হিসাবে ভাগ করে
স্বাস্থ্য যত্ন -                                                              ৩-৫ টাকা       মাসিক টিকা/কৃমিনাশক ভাগ করে
মোট দৈনিক খরচ            প্রতি ভেড়া                      ২০-৩৭ টাকা গড়ে প্রতিদিন ২৫-৩০ টাকা

এই গুলো পাশাপাশি আপনাকে ভেড়ার বাচ্চাদের টিকার খরচ আলাদাভাবে রাখতে হবে।

বাচ্চা ভেড়া (১-৬ মাস): ১০-১৫ টাকা/দিন

কিশোর ভেড়া (৬-১২ মাস): ১৫-২৫ টাকা/দিন

প্রাপ্তবয়স্ক (গর্ভবতী/দুধাল): ৩৫-৫০ টাকা/দিন (অতিরিক্ত পুষ্টি প্রয়োজন)

মোটাতাজাকরণ পর্যায়: ৩০-৪০ টাকা/দিন

এই হলো সব আপনার ভেড়ার বিনিয়োগ হিসাব। যার বিনিময়ে আপনি খুব সহজে ভেড়া পোষার A to Z খরচ পেয়ে গেলেন।

লেখকের মক্তব্যঃ

আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন পশু পালনের ক্ষেত্রে ভেড়ার খাবার তালিকা কি কি হয়ে থাকেম ও তারা কি খেতে পছন্দ করে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে ভেড়ার রোগ ও চিকিৎসা কি।

প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।

আরো কিছু জানতে বা শিখতে চাইলে ভিজিট করুন............... www.stylishsm.com



( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।

comment url