কাশি হলে কোন সিরাপ খাওয়া উচিত - শুকনো কাশি হলে কি করণীয়? বিস্তারিত জেনে নিন?

আজকে আমরা জানবো যে আমাদের শরীরে কাশি হলে কোন সিরাপ খাওয়া উচিত ও আমাদের শরীরের জন্য ভাল হবে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে শুকনো কাশি হলে কি করণীয় কাজ আমাদেরকে করা উচিত। আসুন জানি?

ভূমিকাঃ

আজকের দিনে দেখা যায় যে বেশির ভাগ ছেলে মানুষ এই শুকনো কাশিতে ভুগছেন। কেননা বাইরের খাবার ও আজে বাজে খেয়ে নিজের শরীরের ভেতরের কোন ধরনের যত্ন নিচ্ছেন না। ফলে তাদের শুকনো কাশি দেখা দিচ্ছে। এই শুকনো কাশি একটা রোগ জাতীয় বলা যায় যেটি কখনো হালকা চোখে দেখবেন না।

কাশি-হলে-কোন-সিরাপ-খাওয়া-উচিত
কাশি-হলে-কোন-সিরাপ-খাওয়া-উচিত  
তাই আসুন জেনে রাখি যে, আমাদের মাঝে মাঝে এই শুকনো কাশি হলে কোন সিরাপ খাওয়া উচিত আমাদের শরীর ঠিক রাখার জন্য। ও তার সাথে সাথে এটাও জানুন যে শুকনো কাশি হলে কি করণীয় কাজ আছে যেটি আমাদেরকে করতে হবে এই কাশি ঠিক করার জন্য। নিম্নে বিস্তারিত............?

কাশি হলে কোন সিরাপ খাওয়া উচিতঃ

কাশি হলে কোন সিরাপ খেতে হবে তা কাশির ধরন (শুকনা না কফসহ) অনুযায়ী নির্ভর করে। একেক ধরনের কাশির জন্য একেক ধরনের সিরাপ ভালো কাজ করে থাকে নিম্নে দেখুন?

  •  শুকনা কাশি (Dry cough)

যদি খুসখুসে কাশি হয় এবং কফ না থাকে, তাহলে ডেক্সট্রোমেথরফ্যান (Dextromethorphan) জাতীয় সিরাপ ভালো কাজ করে। এই ধরনের সিরাপ কাশির রিফ্লেক্স কমায় এবং শুকনা কাশি থামাতে সাহায্য করে 

  • কফসহ কাশি (Wet cough)

যদি কাশি দিলে কফ বের হয়, তাহলে গুয়াইফেনেসিন (Guaifenesin) জাতীয় সিরাপ ভালো এ ছাড়া Dexpel Syrup ও Dexotix-M Syrup এগুলো বুকের কফ পাতলা করে বের হতে সাহায্য করে 

  • এলার্জি বা সর্দি-কাশি একসাথে হলে
তখন অ্যান্টিহিস্টামিনযুক্ত সিরাপ দরকার যেমনঃ Tuscof Syrup ও Ezykof Plus এগুলো কাশি কমানোর পাশাপাশি নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, গলা জ্বালা কমায়।

অথ্যাৎ, নিজের ইচ্ছামতো সিরাপ না খেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো। ২ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা রাখা দরকার।আর বেশি দিন কাশি থাকলে (৭ দিনের বেশি) অবশ্যই চিকিৎসক দেখান।

শুকনো কাশি হলে কি করণীয়ঃ

শুকনো কাশি (Dry cough) হলে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব। প্রথমত, গরম পানি বেশি করে পান করুন। কুসুম গরম পানি গলা আর্দ্র রাখে এবং খুসখুসে ভাব কমায়। তাছাড়া আপনি চাইলে আদা চা বানিয়ে খেলে সর্দি ও কাশির জন্য খুবই কার্যকর। দ্বিতীয়ত, মধু খেতে পারেন। এক চামচ মধু খেলে গলা নরম করে এবং কাশি কমাতে সাহায্য করে (বিশেষ করে রাতে)। তৃতীয়ত, গরম পানি দিয়ে ভাপ (স্টিম) নিন।

এতে গলা ও শ্বাসনালী পরিষ্কার হয় এবং কাশি কমে। চতুর্থত, ধুলা, ধোঁয়া ও ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলুন। এগুলো শুকনো কাশি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পঞ্চমত, প্রয়োজনে কাশির জন্য ডেক্সট্রোমেথরফ্যান জাতীয় সিরাপ খাওয়া যেতে পারে, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

শুকনো কাশির ঔষধের নাম কিঃ

শুকনো কাশির জন্য সাধারণত কাশি থামানোর (cough suppressant) ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপাদান হলো ডেক্সট্রোমেথরফ্যান (Dextromethorphan) ঔষুধ। আপনার যদি শুকনো কাশি হয়ে থাকে। তাহলে আপনি চাইলে এই ভিটামিন খেতে পারেন।

  1. ডেক্সট্রোমেথরফ্যান (Dry cough কমাতে)
  2. লেভোড্রোপ্রোপিজিন (Levodropropizine)
  3. বুটামিরেট (Butamirate)
  4. D-Cough Syrup
  5. Tuspel Syrup
  6. Cofsil Dry Cough Syrup
  7. অ্যান্টিটাসিভ
  8. প্রিমনোক্সাইড

এসব সিরাপ কাশির রিফ্লেক্স কমিয়ে শুকনো কাশি থামাতে সাহায্য করে।

বড়দের কাশির সিরাপঃ

বড়দের কাশির সিরাপ বেছে নিতে হলে আগে বুঝতে হবে কাশি শুকনা (Dry) নাকি কফসহ হলে আলাদা আলাদা সিরাপ থাকে। যেমনঃ শুকনা কাশি হলে (Dry cough) যদি খুসখুসে কাশি হয়, কফ না থাকে এই ধরনের সিরাপ ভালো কাজ করে ডেক্সট্রোমেথরফ্যান (Dextromethorphan) ও এর সাথে পাওয়া যাবে লেভোড্রোপ্রোপিজিন সিরাপ যা কাশির জন্য কার্যকর। এগুলো কাশির রিফ্লেক্স কমিয়ে কাশি থামায়।

বড়দের-কাশির-সিরাপ
আর আপানার যদি কফসহ কাশি হয় তাহলে গুয়াইফেনেসিন (Guaifenesin),অ্যামব্রোক্সল (Ambroxol) ব্রোমহেক্সিন (Bromhexine) এগুলো কফ পাতলা করে বের হতে সাহায্য করে আমাদের বুক হালকা হালকা লাগে। আর এলার্জি বা ঠান্ডাজনিত কাশি মনে হয় তাহলে সিটিরিজিন (Cetirizine) বা ক্লোরফেনিরামিন (CPM) যুক্ত সিরাপ ব্যবহার করবেন।

  • সতর্কতাঃ

  1. নিজের ইচ্ছায় বেশি দিন সিরাপ খাবেন না
  2. ৫–৭ দিনের বেশি কাশি থাকলে ডাক্তার দেখান
  3. ডায়াবেটিস থাকলে সিরাপের চিনি বিষয়ে সতর্ক থাকুন

মনে রাখবেন আগে করবেন চিন্তা পরে করবেন কাজ। যেটাই করবেন ডাকারের পরামর্শ নিয়ে করবেন। যাতে করে আপনি কোনো সমস্যার মধ্য না পড়েন।

গর্ভাবস্থায় কাশি হলে কোন সিরাপ খাওয়া যাবেঃ

আমাদের যখন সর্দি বা কাশি হয় তখন আমরা সিরাপ খেয়ে থাকি। এই সিরাপ খেলে আমাদের ছোট খাট অসুখ খুব সহজে সেরে যায়। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকে যাই যে কোনো  মেয়ে গর্ভবস্থায় কি এই সিরাপ খেতে পারবে। তাহলে আসুন জেনে নি আসল কথাটা?

গর্ভাবস্থায় প্রথম ১২ সপ্তাহ কোনো ধরনের কাশির সিরাপ না খাওয়াই ভালো। গর্ভাবস্থায় কাশি হলে খুব সতর্ক থাকতে হবে একটা মেয়েকে। কারণ সব সিরাপ নিরাপদ নয় স্বাস্থ্যর জন্য। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত না এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা।

তবে সাধারণভাবে কিছু সিরাপ তুলনামূলক নিরাপদ ধরা হয় যেটি আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে পারবেন। যেমনঃ ডেক্সট্রোমেথরফ্যান (Dextromethorphan) → শুকনা কাশিতে খেতে পারবেন ও গুয়াইফেনেসিন (Guaifenesin) → কফযুক্ত কাশিতে খেতে পারবেন।

আপনার কাশি যদি কাশি ৫–৭ দিনের বেশি থাকে কিংবা জ্বর বা শ্বাসকষ্ট বেশি মনে হয়। সেক্ষেত্রে আপনি  চাইলে সিরাপ খেতে পারবেন। এগুলো সিরাপ অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ ধরা হলেও ডোজ ও খাওয়ার সময় ঠিক রাখা জরুরি, তাই নিজে নিজে না খাওয়াই ভালো।

গর্ভাবস্থায় কাশি হলে কি ক্ষতি হয়ঃ

গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন যেকোনো মানুষই সর্তক থাকে। এই সময়ে খাওয়া দাওয়া সব কিছু ঠিক রাখতে হয় মানুষকে। এই অবস্থায় যদি কারো সর্দি বা কাশি হয়ে থাকে তাহলে তার জন্য বিভিন্ন ধরনের করণীয় কাজ থাকে। গর্ভাবস্থায় কাশি হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মা বা ছেলের বড় কোনো ক্ষতি হয় না, তবে পরিস্থিতি ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ ছেলেটি অ্যামনিয়োটিক ফুলইডে সুরক্ষিত থাকে।

সাধারণ হালকা কাশি হলে মা বা বাচ্চার তেমন ক্ষতি হয় না এটি ডাক্তার দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু যদি কাশি বেশি দিন থাকে বা খুব তীব্র হয়, তাহলে মায়ের শরীরে অস্বস্তি, পেশিতে ব্যাথা, ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে। বারবার জোরে কাশি হলে পেটে চাপ পড়ে, এতে সাময়িক অস্বস্তি বা পেট ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

যদি কাশি কোনো সংক্রমণ (যেমন সর্দি, ফ্লু বা শ্বাসতন্ত্রের রোগ) এর কারণে হয়, তাহলে জ্বর, দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে, যা মায়ের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মায়ের শরীর খারাপ হলে পরোক্ষভাবে বাচ্চার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। তাই নিজেকে সব সময় সর্তক রাখবেন।

কাশি কমানোর ঘরোয়া উপায়ঃ

কাশি কমানোর জন্য ঘরে বসেই কিছু সহজ ও কার্যকর উপায় মেনে চললে অনেকটাই আরাম পাওয়া সম্ভব। যার জন্য আপনাকে কিছু প্রদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

কুসুম গরম পানি বেশি করে পান করুন। যার সাথে আপনি  চাইলে আদা, লবঙ্গ দ্বারা পানি তৈরি করে গার্গল করতে পারেন যার ফলে কাশি কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া মধু খুব উপকারী। দিনে ১–২ বার এক চামচ মধু খেলে গলা নরম হয় এবং শুকনা কাশি কমে। গরম পানির ভাপ (স্টিম) নিন। এতে গলা ও শ্বাসনালী পরিষ্কার হয় এবং কফ থাকলে তা বের হতে সাহায্য করে।

লেবু ও গরম পানি খেতে পারেন। এতে ভিটামিন C থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বুকের কফ পাতলা করতে সাহায্য করে। গলায় ব্যাথা অনুভব করলে আদা চা বা আদা মিশ্রিত পানি খেলে কাশি ও গলা ব্যথা কমে। কাশি কমানোর ক্ষেত্রে কখনো ঠান্ডা পানি ও ঠান্ডা খাবার চেষ্টা করবেন না, ধুলা, ধোঁয়া থেকে দূরে থাকুন ও  ধূমপান করবেন না। এইগুলো কথা অনুসরণ করে চলবেন।

লেখকের মক্তব্যঃ

আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন আমাদের শরীরে কাশি হলে কোন সিরাপ খাওয়া উচিত হবে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে শুকনো কাশি হলে কি করণীয় কাজ করতে হবে।

প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।

আরো কিছু জানতে বা শিখতে চাইলে ভিজিট করুন.................. www.stylishsm.com



( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।

comment url