সিপাহী এর কাজ কি - কাস্টমস সিপাহী এর সুযোগ সুবিধা? বিস্তারিত জেনে নিন?

আজকে আমরা জানবো যে চাকরীর করার ক্ষেত্রে এই সিপাহী এর কাজ কি ও এর কি কি দায়িত্ব পালন করতে হয়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে কাস্টমস সিপাহী এর সুযোগ সুবিধা কি কি হয়ে থাকে ও কি কি ভেবার দিয়ে থাকে সরকার। আসুন জানি?

ভূমিকাঃ

আজকের দিনে সবাই কমবেশি চাকরির জন্য ছুটছে। চাকরি আজকের দিনে সবার জীবনে একটা দৈনিক বার্তা হয়ে গেছে। একটা চাকরী মানে পরিবার চালানোর ক্ষমতা। যারা পড়াশুনা করছে তারা অবশ্যই একটা চাকরী ডির্জাব করে। এই জন্য আজকের দিনে সবাই এই চাকরির পিছে ছুটছে।

তাই আসুন জেনে রাখি যে, চাকরি করার ক্ষেত্রে এই সিপাহী এর কাজ কি ও কি কি কর্তব্য থাকে একজন সিপাহির। ও তার সাথে সাথে এটাও জানুন যে কাস্টমস সিপাহী এর সুযোগ সুবিধা কি কি হয়ে থাকে সরকারি ডিপারমেন্টে। নিম্নে বিস্তারিত.........?

সিপাহী এর কাজ কিঃ

একেজন সিপাহীর মূলত একটি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদ। বাংলাদেশে সিপাহীর কাজ প্রতিষ্ঠানভেদে একটু ভিন্ন হলেও সাধারণ দায়িত্বগুলো প্রায় একই। সিপাহী অফিস, হাসপাতাল, থানা, আদালত বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, রাষ্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রবেশপথে দায়িত্ব পালন করা। আগত লোকজনকে নিয়ম মেনে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো।

সিপাহী-এর-কাজ-কি
এছাড়া অফিসের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ফাইল বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দেওয়া, ডাক গ্রহণ ও বিতরণ করাও অনেক জায়গায় সিপাহীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আদালত বা থানায় কর্মরত সিপাহীরা আসামি আনা নেওয়া, মাদক বিরোধী হওয়া, প্রয়োজন বোধে যেকোনো জাইগার তল্লাশি করা। হাজত পাহারা দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রচেষ্টা করা।

কাস্টমস সিপাহী এর সুযোগ সুবিধাঃ

কাস্টমস সিপাহী পদটি একটি সরকারি চাকরি হওয়ায় এখানে বেশ কিছু ভালো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। যার মূল বেতন ৯,৩০০ থেকে ২২,৪৯০ টাকা হয়ে থাকে। এর সাথে সাথে বেশ কিছু সুযোগ আরো আছে। কাস্টমস সিপাহী জাতীয় বেতন স্কেল এর সঙ্গে নিয়মিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, মহার্ঘ ভাতা এবং সরকার নির্ধারিত অন্যান্য ভাতা যুক্ত থাকে।

এই পদে চাকরি করলে সরকারি চাকরির স্থায়িত্ব পাওয়া যায়, যা অনেকের জন্য বড় সুবিধা। পাশাপাশি ভবিষ্য তহবিল পেনশন সুবিধা, এবং অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা থাকে। কাস্টমস সিপাহী হিসেবে কর্মরতরা চিকিৎসা সুবিধা, সরকারি হাসপাতাল ও নির্ধারিত চিকিৎসা ভাতা পান। এছাড়া সরকারি ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি, অর্জিত ছুটি ও উৎসব ভাতা (ঈদ বোনাস) নিয়মিত পাওয়া যায়।

ভালো কাজ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগও থাকে।যেমনঃ ল্যান্স নায়েক/হেড সিপাহী বা সমমানের উচ্চ পদে উন্নীত হওয়া। কাস্টমস সিপাহী পদটি হলো নিরাপদ, সম্মানজনক এবং দীর্ঘমেয়াদি সরকারি চাকরি, যেখানে বেতন ছাড়াও নানা সামাজিক ও আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়।

কাস্টমস সিপাহী এর পদোন্নতিঃ

কাস্টমস সিপাহী পদের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। সাধারণভাবে চাকরির অভিজ্ঞতা, বিভাগীয় পরীক্ষা, শৃঙ্খলা, টাইম অফিস যাওয়া, স্যারের সাথে ভাল ব্যবহার করা, সবার মন জগিয়ে চলে, ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে এই পদোন্নতি হয়ে থাকে। 

কাস্টমস সিপাহী হিসেবে চাকরি শুরু করার পর নির্দিষ্ট সময় সন্তোষজনকভাবে দায়িত্ব পালন করলে প্রথমে ল্যান্স নায়েক / হেড সিপাহী, সাব ইন্সপেক্টর (সমমান পদ) এ পদোন্নতির সুযোগ পাওয়া যায়। এরপর অভিজ্ঞতা ও বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

পরবর্তীতে যোগ্যতা ও শূন্য পদের ওপর নির্ভর করে কাস্টমস গার্ড / উচ্চতর সহকারী পর্যায়ের পদে পদোন্নতি হতে পারে। পদ উন্নতি হলে আপনি ১০ তম গ্রেডে চ্যান্স পেতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার মাধ্যমে কাস্টমস ইন্সপেক্টর পর্যায়েও উন্নীত হওয়ার সুযোগ থাকে।

কাস্টমস সিপাহী  কত গ্রেডঃ

বাংলাদেশে এক্সইজ ও ভ্যাট কাস্টমস সিপাহী পদটি সাধারণত ১৬ তম কিংবা ১৭তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।এই পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী ১৭তম গ্রেডের মূল বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও সরকার নির্ধারিত অন্যান্য ভাতা পান। ১৬তম গ্রেড (৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা) অথবা ১৭তম গ্রেড (৯,০০০-২১,৮০০ টাকা) এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। ভবিষ্যতে পদোন্নতি হলে গ্রেডও ধাপে ধাপে উন্নীত হয়।

সিপাহী কাকে বলা হয়ঃ

সিপাহী বলতে সাধারণভাবে এমন একজন কর্মচারী বা সৈনিককে বোঝায়, যিনি কোনো বাহিনী বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিম্নস্তরের দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাবিষয়ক কর্মী হিসেবে কাজ করেন। সিপাহীর মূল কাজ হলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দাপ্তরিক কাজে সহায়তা দেওয়া।

বাংলাদেশে সিপাহী শব্দটি সাধারণত পুলিশ, আনসার, কাস্টমস, কারাগার, আদালত বা অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার প্রাথমিক পদ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। সংক্ষেপে বললে, যিনি শৃঙ্খলা রক্ষা, পাহারা দেওয়া, তল্লাশি নেওয়া বিভিন্ন কাজে দায়িত্ব পালন করেন তিনিই সিপাহী।

সিপাহী এর পেনশনঃ

সিপাহী পদে পেনশন সুবিধা সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য হয়। একজন সিপাহী যদি সরকার নির্ধারিত সময় পর্যন্ত নিয়মিত চাকরি করেন। ১৫ বছর চাকরী শেষে একজন কর্মচারী প্রনশনের যোগ্য হয়ে থাকে। আর সিপাহীদের ক্ষেত্রে প্রায় ২১ বছর কাটিয়ে ফেলে, তাহলে অবসর গ্রহণের পর তিনি আজীবন পেনশন পাওয়ার অধিকারী হন।

সাধারণভাবে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরি পূর্ণ করলে পূর্ণ পেনশন সুবিধা পাওয়া যায়। পেনশনের পরিমাণ নির্ধারিত হয় চাকরির শেষ বেতন, মোট চাকরিকাল ও কার্যকর বেতন স্কেলের ওপর ভিত্তি করে। এর সঙ্গে অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি, ভবিষ্য তহবিলের টাকা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধাও পাওয়া যায়। সিপাহী হিসেবে সরকারি চাকরি করলে অবসরের পর নিয়মিত পেনশন ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।

কাস্টমস সিপাহী চাকরীর জন্য কি পাস করতে হয়ঃ

কাস্টমস সিপাহী চাকরীর জন্য সাধারণত কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে ন্যূনতম মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (SSC) বা সমমানের পরীক্ষায় পাস হতে হয়। এসএসসি পাস করলেই আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত করা হয়।

কাস্টমস-সিপাহী-চাকরীর-জন্য-কি-পাস-করতে-হয়
প্রথমে প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষায় সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি), গণিত এবং মৌলিক বুদ্ধিমত্তা বা সাধারণ বিজ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পরবর্তী ধাপের জন্য ডাকা হয়।

এরপর থাকে শারীরিক পরীক্ষা (Physical Test)। এখানে উচ্চতা, বুকের মাপ, ওজন ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়। পুরুষ ও নারী প্রার্থীদের জন্য মানদণ্ড আলাদা হয়ে থাকে। শারীরিক পরীক্ষায় পাস করলে নিতে হয় মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)। ভাইভায় সাধারণ জ্ঞান, চাকরি সম্পর্কিত ধারণা, আচরণ ও আত্মবিশ্বাস মূল্যায়ন করা হয়। 

সবশেষে থাকে মেডিকেল পরীক্ষা, যেখানে চোখ, কানের শ্রবণক্ষমতা, সাধারণ স্বাস্থ্য ও মাদকমুক্ততা যাচাই করা হয়। কাস্টমস সিপাহী হতে হলে লিখিত পরীক্ষা + শারীরিক পরীক্ষা + ভাইভা + মেডিকেল পরীক্ষা—এই চারটি ধাপ সফলভাবে পাস করতে হয়।

লেখকের মক্তব্যঃ

আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন চাকরির ক্ষেত্রে সিপাহী এর কাজ কি ও কি কি দায়িত্ব পালন করতে হয়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে কাস্টমস সিপাহী এর সুযোগ সুবিধা কি।

প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।

আরো কিছু জানতে বা শিখতে চাইলে ভিজিট করুন.................. www.stylishsm.com



( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।

comment url