ই কর্মাস বলতে কি বোঝায় - ই কর্মাস এর সুবিধা ও অসুবিধা? বিস্তারিত জেনে নিন?

আজাকে আমরা জানবো যে অনলাইনে ব্যবসার ক্ষেত্রে এই ই কর্মাস বলতে কি বোঝায় ও এই ই কর্মাস ব্যবসা কিভাবে করতে হয়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে ই কর্মাস এর সুবিধা ও অসুবিধা কি ও আপনি কিভাবে এই ই কর্মাস ব্যবসা শুরু করবেন? আসুন জানি?

ভূমিকাঃ

আজকের দিনে সবাই অনলাইনে ব্যবসা করতে চাই, কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে টাকার জন্য কিছু ব্যাক্তি ব্যবসা শুরু করতে পারেন না। কিন্তু এই ই কর্মাস ব্যবসা হচ্ছে আপনি টাকা না থাকলেও টাকা আয় করতে পারবেন যেকোনো প্রোডাক্ট সেল করে।

তাই আসুন জেনে রাখি যে, বসে থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য এই ই কর্মাস বলতে কি বোঝায় ও কিভাবে এই সেক্টরে টাকা ইনকাম করা যায়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানুন যে ই কর্মাস এর সুবিধা ও অসুবিধা কি ধরনের হয়ে থাকে। নিম্নে বিস্তারিত.........?

ই কর্মাস বলতে কি বোঝায়ঃ

ই-কমার্স (E-commerce) বলতে বোঝায় ইন্টারনেট বা অনলাইন মাধ্যমে পণ্য ও সেবা কেনা-বেচার প্রক্রিয়া। সহজ ভাষায় বললে, ঘরে বসে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে অনলাইনে শপিং করা, বিল পরিশোধ করা বা কোনো সেবা নেওয়াই হলো ই-কমার্স।

যেমনঃ ফেসবুক পেজ থেকে কাপড় কেনা, দারাজ থেকে মোবাইল অর্ডার করা, অনলাইনে খাবার ডেলিভারি নেওয়া বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করা এসবই ই-কমার্সের উদাহরণ। বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসা দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে, কারণ এতে সময় বাঁচে, ঝামেলা কম এবং সহজে বিভিন্ন পণ্যের দাম তুলনা করা যায়। ও আপনি কোনো জিনিস সেল দিলে সেখান থেকে আপনি টাকা পাবেন।

ই কর্মাস এর সুবিধা ও অসুবিধাঃ

ই-কমার্সের সবচেয়ে বড় "সুবিধা" হলো ঘরে বসে কেনাকাটা করা যায়। সময় ও যাতায়াত খরচ বাঁচে। এক জায়গা থেকেই অনেক দোকানের পণ্য ও দাম তুলনা করা যায়। ২৪ ঘণ্টা অর্ডার দেওয়ার সুযোগ থাকে। অনেক সময় ছাড়, অফার ও ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়। ছোট উদ্যোক্তারা কম খরচে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আর ই-কমার্সের "অসুবিধা" হচ্ছে যে, ই-কমার্সে পণ্য হাত দিয়ে দেখে কেনা যায় না, তাই গুণগত মান নিয়ে ঝুঁকি থাকেজ

কখনো কখনো ভুয়া পেজ বা প্রতারণার শিকার হতে হয় মানুষকে। ডেলিভারিতে দেরি হতে পারে। অনলাইন পেমেন্টে তথ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকে। পণ্য ফেরত দেওয়া বা অভিযোগ করার প্রক্রিয়াও অনেক সময় ঝামেলার হয়। সব মিলিয়ে, সচেতনভাবে ব্যবহার করলে ই-কমার্স খুবই উপকারী, তবে ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়া জরুরি।

ই কর্মাস কত প্রকার ও কি কিঃ

ই-কমার্স মূলত কয়েকটি প্রকারে ভাগ করা হয়, যা ক্রেতা ও বিক্রেতার সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়ে থাকে। নিম্নে দেখুন?

১) বিজনেস টু কাস্টমার (B2C)

এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য বা সেবা বিক্রি করে। যেমনঃ দারাজ, আজকেরডিল, ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ইত্যাদি। এটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ও ব্যবহৃত ই-কমার্স।

২) বিজনেস টু বিজনেস (B2B)

এখানে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করে। যেমন—কারখানার কাঁচামাল অনলাইনে কেনা-বেচা, পাইকারি পণ্যের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।

৩) কাস্টমার টু কাস্টমার (C2C)

এতে একজন সাধারণ মানুষ অন্য সাধারণ মানুষের কাছে পণ্য বিক্রি করে। যেমন—ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, অনলাইন গ্রুপে ব্যবহৃত মোবাইল বা কাপড় বিক্রি।

৪) কাস্টমার টু বিজনেস (C2B)

এখানে ভোক্তা কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সেবা বা পণ্য প্রদান করে। যেমন—ফ্রিল্যান্সাররা অনলাইনে কোম্পানিকে কাজ দেয়, ছবি বা কনটেন্ট বিক্রি করে।

৫) গভর্নমেন্ট টু কাস্টমার (G2C)

সরকার যখন অনলাইনে জনগণকে সেবা দেয়, সেটি এই শ্রেণির মধ্যে পড়ে। যেমনঃ অনলাইনে বিল পরিশোধ, আবেদন ফরম পূরণ, সনদ সংগ্রহ।

সংক্ষেপে বললে, ই-কমার্স প্রধানত B2C, B2B, C2C, C2B ও G2C—এই ৫ প্রকারে বিভক্ত দ্বারা ব্যবসা করা হয়ে থাকে।

ই কর্মাস ব্যবসার নিয়মঃ

ই-কমার্স ব্যবসার নিয়ম মানে হলো অনলাইনে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করার সঠিক ধাপগুলো। বেঁছে নেওয়া। প্রথমে একটি নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবা নির্বাচন করতে হয়। এরপর ব্যবসার জন্য ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন মার্কেটপ্লেস বেছে নিতে হবে। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য ব্যবসার নাম, লোগো ও যোগাযোগের তথ্য পরিষ্কারভাবে দিতে হয়

এরপর ব্যবসার জন্য বৈধতা নিশ্চিত করা জরুরি যেমনঃ ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন (প্রযোজ্য হলে) এবং সরকারি ই-কমার্স নীতিমালা মেনে চলা, সময় হলে ভ্যাট, ট্যাক্স দেওয়া। পণ্যের সঠিক ছবি, দাম ও বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে, যাতে ক্রেতা বিভ্রান্ত না হয়।

পেমেন্টের জন্য নিরাপদ মাধ্যম ব্যবহার করতে হয়। যেমনঃ বিকাশ, নগদ, রকেট বা অনলাইন গেটওয়ে। ডেলিভারির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য কুরিয়ার সার্ভিস নির্বাচন করা জরুরি। অর্ডার নেওয়ার পর সময়মতো পণ্য পাঠানো ও গ্রাহকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গ্রাহক সেবা ও স্বচ্ছতা। রিটার্ন/রিফান্ড নীতি পরিষ্কার রাখা, প্রতারণা এড়িয়ে চলা এবং ভালো ব্যবহার করলে ই-কমার্স ব্যবসা ধীরে ধীরে সফল হওয়া সম্ভব।

ই কমার্স প্রোডাক্ট মার্কেটিংঃ

ই-কমার্স প্রোডাক্ট মার্কেটিং বলতে অনলাইনে পণ্যকে সঠিকভাবে প্রচার করে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কৌশলকে বোঝায়। সহজভাবে বললে, আপনার পণ্য যেন মানুষ দেখে, বোঝে আর কিনতে আগ্রহী হয়—এই পুরো প্রক্রিয়াই মার্কেটিং বলে।

ই-কমার্স মার্কেটিংয়ের প্রথম ধাপ হলো টার্গেট কাস্টমার নির্ধারণ। কার জন্য পণ্যটি—ছাত্র, চাকরিজীবী, নারী নাকি শিশু—এটা পরিষ্কার হলে মার্কেটিং সহজ হয়। এরপর পণ্যের আকর্ষণীয় ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা খুব জরুরি, কারণ অনলাইনে চোখে পড়াই প্রথম কাজ।

ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে নিয়মিত পোস্ট করা, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম বিজ্ঞাপন (Ads) চালানো ই-কমার্সে খুব কার্যকর। পাশাপাশি বিশ্বাস তৈরি করতে রিভিউ, কাস্টমার ফিডব্যাক ও লাইভ ভিডিও ব্যবহার করা যায়। আপনাকে বুঝতে হবে যে আজকের দিনে মানুষ কি বেশি চাইছে, তাদের চাদিহা কি ধরনের। এই সব জেনে নিলে আপনার কাছে মার্কেটিং ও কেনা বেচা হহজ হয়ে ওঠবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অফার ও ডিসকাউন্ট। ফ্রি ডেলিভারি, সীমিত সময়ের ছাড় বা বান্ডেল অফার ক্রেতার আগ্রহ বাড়ায়। সবশেষে দ্রুত রিপ্লাই, ভদ্র আচরণ ও সময়মতো ডেলিভারি করলে ক্রেতা আবারও আপনার কাছেই ফিরবে। 

ই কমার্স ওয়েবসাইট কিঃ

ই-কমার্স ওয়েবসাইট হলো এমন একটি অনলাইন ওয়েবসাইট বা ঘর বলা যায়, যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা কেনা–বেচা করা যায়। সহজ ভাষায় বললে, এটি একটি অনলাইন দোকান, যেখানে ক্রেতা ঘরে বসেই পণ্যের ছবি দেখে, দাম যাচাই করে অর্ডার দিতে পারে এবং অনলাইনে বা ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পেমেন্ট করতে পারে।

ই-কমার্স ওয়েবসাইটে সাধারণত পণ্য ক্যাটাগরি, পণ্যের বিস্তারিত তথ্য, কার্ট, চেকআউট, পেমেন্ট গেটওয়ে ও অর্ডার ট্র্যাকিং সুবিধা থাকে। যেমন—দারাজ, অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট ইত্যাদি ই-কমার্স ওয়েবসাইটের পরিচিত উদাহরণ।

ই কমার্স কোম্পানি কিভাবে আয় করেঃ

ই-কমার্স কোম্পানি আয় করে বিভিন্ন উপায়ে, একটি মাত্র সোর্সে নয়। সহজ করে বললে, তারা প্ল্যাটফর্ম + সার্ভিস + স্কেল—এই তিনটার মিক্সে টাকা আয় করে থাকে। প্রথমত, পণ্য বিক্রির লাভ। অনেক ই-কমার্স কোম্পানি নিজেরাই পণ্য কিনে স্টক রাখে এবং বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফা করে। এটাকে সরাসরি সেলস প্রফিট বলা যায়।

দ্বিতীয়ত, কমিশন চার্জ। মার্কেটপ্লেস মডেলে (যেমন দারাজ) অন্য বিক্রেতারা পণ্য বিক্রি করলে ই-কমার্স কোম্পানি প্রতিটি বিক্রির ওপর নির্দিষ্ট শতাংশ কমিশন পেয়ে থাকে।

তৃতীয়ত, ডেলিভারি ও সার্ভিস চার্জ। হোম ডেলিভারি, হোলসেল, ফাস্ট ডেলিভারি, ক্যাশ অন ডেলিভারি এই সার্ভিসগুলোর জন্য আলাদা চার্জ নেয়া হয়।

চতুর্থত, বিজ্ঞাপন ও প্রোমোশন। বিক্রেতারা নিজের পণ্য বেশি দেখানোর জন্য প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেয়, সেখান থেকেও কোম্পানি আয় করে।

পঞ্চমত, ডাটা ও সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস। বড় ই-কমার্স কোম্পানি প্রিমিয়াম সেলার অ্যাকাউন্ট, অ্যানালিটিক্স বা বিশেষ সুবিধার জন্য মাসিক ফি নেয়।

সব মিলিয়ে, ই-কমার্স কোম্পানি শুধু পণ্য বিক্রি করে না—কমিশন, সার্ভিস চার্জ, বিজ্ঞাপন আর সাবস্ক্রিপশন মিলিয়েই মূল আয় করে। টাকা ইনকাম যেকোনো প্রদ্ধতিতে করা যায়, শুধু ইচ্ছা থাকতে হবে।

লেখকের মক্তব্যঃ

আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন অনলাইনে ইনকাম করার ক্ষেত্রে ই কর্মাস বলতে কি বোঝায়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে ই কর্মাস এর সুবিধা ও অসুবিধা কি কি হয়ে থাকে।

প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।

আরো কিছু জানতে বা শিখতে  চাইলে ভিজিট করুন............... www.stylishsm.com



( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।

comment url