ল্যাব টেকনিশিয়ান এর কাজ কি - ল্যাব টেকনিশিয়ান এর বেতন কত? বিস্তারিত জেনে নিন?
আজকে আমরা জানবো যে চাকরীর করার ক্ষেত্রে এই ল্যাব টেকনিশিয়ান এর কাজ কি ও এর কি কি দায়িত্ব থাকে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে ল্যাব টেকনিশিয়ান এর বেতন কত ও এই পদে কাজ করলে কি কি সুবিধা পাওয়া যায়। আসুন জানি?
ভূমিকাঃ
আজকের দিনে দেখা যায় যে চাকরী করার ক্ষেত্রে সব মানুষই চাকরির পিছনে ছুটছে। একটা ভাল চাকরী করার স্বপ্ন প্রায় সব মানুষই দেখে। কিন্তু সবার এই স্বপ্ন পূর্ণ হয় না। কেননা চাকরী করতে হলে ধৈর্য ও মনশান্তি রাখতে হবে। চাকরি হচ্ছে একটা ভাগ্যের খেলা।
| ল্যাব-টেকনিশিয়ান-এর-কাজ-কি |
ল্যাব টেকনিশিয়ান এর কাজ কিঃ
ল্যাব টেকনিশিয়ান মূলত কাজ হলো বৈজ্ঞানিকভাবে পরিক্ষা নিরীক্ষা করে রিপোর্ট তৈরি করা। এরা বেশীর ভাগ হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা (টেস্ট) সম্পন্ন করেন। তার প্রধান কাজ হলো রক্ত, মূত্র, মল, কফসহ ল্যাবটেরির যন্ত্রপাতি নিয়েও তারা পরিচালনা করে থাকে। বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলো ঠিকভাবে পরীক্ষা করা, এবং ফলাফল রিপোর্ট আকারে প্রস্তুত করা।
এছাড়া ল্যাবের যন্ত্রপাতি পরিষ্কার ও ক্যালিব্রেশন, কেমিক্যাল ও রিএজেন্ট সঠিকভাবে সংরক্ষণ, এবং স্বাস্থ্যবিধি ও সেফটি রুলস মেনে কাজ করা ল্যাব টেকনিশিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সহজ কথায়, ডাক্তার যাতে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারেন। সেই জন্য নির্ভুল টেস্ট রিপোর্ট দেওয়াই ল্যাব টেকনিশিয়ানের মূল কাজ।
ল্যাব টেকনিশিয়ান এর বেতন কতঃ
বাংলাদেশে ল্যাব টেকনিশিয়ানের বেতন সরকারি ও বেসরকারি সেক্টর অনুযায়ী আলাদা হয়ে থাকে। এই কাজে অভিজ্ঞতা যাদের আছে তাদেরকে বেশি খোঁজা হয়। যারা সরকারি চাকরিতে আছেন তাদের একটা স্কেল থাকে। ঐ অনুযায়ী তাদেরকে বেতন দেওয়া হয়। যেমনঃ যারা নতুন নতুন কাজ শুরু করেছে তাদের বেতন সাধারণত ৳১০,০০০ থেকে ৳১৫,০০০ হাজার হয়ে থাকে।
ও যারা পুরাতন কর্মচারি আছেন তাদের বেতন ৳২৫,০০০ থেকে ৳৪০,০০০ হাজার টাকা হয়ে থাকে। ও চাকরীর ক্ষেত্রে আসতে আসতে সবার ব্রতন স্কেল বাড়ে শুধু ধৈর্য নিয়ে কাজ করে যান।
ল্যাব টেকনিশিয়ান এর গ্রেড কতঃ
ল্যাব টেকনিশিয়ান কাজ কমবেশি সব মানুষই করতে চান। এই কাজটি হলো ল্যাবের মধ্য সব ধরনের কাজ। যেখানে হয় বিভিন্ন ধরনের পরিক্ষা-নিরীক্ষা, টেস্ট,ইত্যাদি আরো অনেক কিছুর কাজ হয়। এটি একটি স্ট্যান্ডার কাজ। যা সবাই করতে চাই, এই ল্যাবে কাজ করতে হলে আপনাকে সাইন্স নিয়ে পড়াশুনা করতে হবে।
সরকারীর ক্ষেত্রে এর গ্রেড হয় ১৪ - ১৬ ঘরের মধ্য। আপনি যদি এই কাজের জন্য যোগ্য হোন। তাহলে আপনি নিশ্চিত এই পদে অ্যাপ্লাই করতে পারবেন চাকরীর জন্য।
ল্যাব টেকনিশিয়ান এর ভাইভাঃ
ল্যাব টেকনিশিয়ান এর ভাইভা খুবই সেনসিটিভ একটি ভাইভা এখানে আপনাকে খুব সর্তকতার সাথে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। কিন্তু আপনি যদি জেনে রাখেন তাহলে আপনার কাছে খুব সহজ মনে হবে।ভাইভায় সাধারণত টেকনিক্যাল নলেজ (বেসিক) সেফটি ও হাইজিন সম্পর্কে ধারণা, প্রোটোকল যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা, পরিক্ষা-নিরীক্ষা করা,পিপিই ব্যবহার ভুল করলে কি করা, ও দায়িত্ববোধ আচরণ রাখা।
- ব্যাসিক কিছু প্রশ্নঃ
- নিজের পরিচয় দাও
- কেন ল্যাব টেকনিশিয়ান হতে চাও?
- CBC টেস্ট কী?
- রক্তের গ্রুপ কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
- Hb কত হলে স্বাভাবিক?
- ইউরিন টেস্ট কেন করা হয়?
- সেফটি ও হাইজিন কি
- PPE কী?
- ল্যাবে গ্লাভস কেন ব্যবহার করা হয়?
- ইনফেকশন কীভাবে ছড়ায়?
- সেন্ট্রিফিউজ মেশিনের কাজ কী?
- মাইক্রোস্কোপের ব্যবহার
এই সব কিছু আপনি যদি মাথায় রেখে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। তাহলে আপনি নিশ্চিত সব স্যার ও ম্যাডামের মন জয় করত পারবেন। আর সবার মন জয় করতে পারলে আপনার চাকরী হয়ে যাওয়ার চ্যাঞ্চ থাকবে।
ল্যাব টেকনিশিয়ান চাকরীর জন্য কি পাস করতে হয়ঃ
ল্যাব টেকনিশিয়ান চাকরীর জন্য আপনাকে খুব বেশী আহামরে যে পড়াশুনা করতে হবে তেমন কিছু না। আপনি যদি ল্যাব টেনিশিয়ানে চাকরী করতে চান তাহলে আপনাকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে SSC (বিজ্ঞান) বা সমমান পাস করে, এরপর ডিপ্লোমা বা বিএসসি (B.Sc.) ইন Medical Laboratory Technology (MLT) বা Biomedical Science পড়া শেষ করে সে ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।
আর জীববিজ্ঞান, রসায়ন,ও পদার্থ বিদ্যার মত এই সাব্জেট থাকতে হবে। এই কাজের জন্য কিছু আবার সার্টিফিকেশন বা কোর্স দরকার হয়। যা অভিজ্ঞতার সাথে তুলনামূলক প্রয়োজন।
ল্যাব টেকনিশিয়ান পদোন্নতিঃ
বাংলাদেশে ল্যাব টেকনিশিয়ান সাধারণত ১৪ –১৬তম গ্রেডে চাকরি শুরু করেন। এরপর অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা, বিভাগীয় পরীক্ষা ও শূন্য পদের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে পদোন্নতির সুযোগ থাকে। পদ উন্নতির জন্য আপনাকে আগে সবাইকে কাজ দেখাতে হবে। সময় মত কাজে যাওয়া টিইম মেন্টেন করা, সবার আদের্শ শুনা, কোনো কাজে ঘাপতি থাকলে সেটি নিজ দায়িত্বে করে দেওয়া ও সবার সাথে হাসি মুখে কথা বলা।
এ ছাড়া পদ উন্নতির জন্য সিনিয়র ল্যাব টেকনিশিয়ান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট / ল্যাব সুপারভাইজার, চিফ ল্যাব টেকনোলজিস্ট এদের সাথে মিল রেখে কাজ করা ও সবার মন জয় করা। সরকারি চাকরিতে সাধারণত ৫–৭ বছর পর পদোন্নতির সুযোগ আসে (নিয়ম অনুযায়ী)। বেসরকারি সেক্টরে স্কিল আর পারফরম্যান্স ভালো হলে প্রমোশন আরও দ্রুত হতে পারে।
ল্যাব টেকনিশিয়ান এর অভিজ্ঞতাঃ
ল্যাব টেকনিশিয়ান-এর অভিজ্ঞতা বলতে মূলত ল্যাবে হাতে–কলমে কাজ করার বাস্তব দক্ষতাকে বোঝায়। একজন অভিজ্ঞ ল্যাব টেকনিশিয়ান রোগীর রক্ত, ইউরিন, মলসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ, সেগুলো সঠিকভাবে পরীক্ষা করা, এবং নির্ভুল রিপোর্ট প্রস্তুত করতে হয়। তিনি মাইক্রোস্কোপ, সেন্ট্রিফিউজ, অটো অ্যানালাইজারসহ ল্যাবের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা জানতে হবে।
অভিজ্ঞতার সাথে সাথে তিনি ইনফেকশন কন্ট্রোল, সেফটি রুলস, PPE ব্যবহার এবং বায়োমেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও পারদর্শী হয়ে ওঠেন। সাধারণত ১–২ বছর কাজ করার পর একজন ল্যাব টেকনিশিয়ানের কাজের গতি, ভুলের পরিমাণ কমে আসে এবং দায়িত্ববোধ বাড়ে, যা ভালো চাকরি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বড় প্লাস পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে।
লেখকের মক্তব্যঃ
আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন যে চাকরীর করার ক্ষেত্রে এই ল্যাব টেকনিশিয়ান এর কাজ কি। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে ল্যাব টেকনিশিয়ান এর বেতন কত।
প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।
আরো কিছু জানতে বা শিখতে চাইলে ভিজিট করুন............... www.stylishsm.com
( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )

স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।
comment url