জারীকারক এর কাজ কি - জারীকারক এর বেতন কত? বিস্তারিত জেনে নিন?
আজকে আমরা জানবো যে চাকরীর করার ক্ষেত্রে এই জারীকারক এর কাজ কি ও একটি আদালতে কি কি দায়িত্ব হয়ে থাকে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে জারীকারক এর বেতন কত ও এই জারীকারক কি কি ভেবার পেয়ে থাকে। আসুন জানি?
ভূমিকাঃ
আজকের দিনে সবাই কমবেশি চাকরী করতে ইচ্ছুক। কারণ, চাকরী হচ্ছে একটা জীবনের লাইফ সাপোর্ট। একটা চাকরী মানে একটা পরিবারের দায়িত্ব ও কর্তব্য ভালভাবে পালন করার নিজের একটা জোর। চাকরী সবাই পায় না। যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে শুধু তারাই জানে একটা মানুষের স্বপ্ন।
| জারীকারক-এর-কাজ-কি |
জারীকারক এর কাজ কিঃ
জারীকারক এর মূলত কাজ হলো আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করার পদ। তার প্রধান কাজ হলো আদালতের নোটিশ, সমন, ওয়ারেন্ট ও আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়া (জারি করা)। সহজ কথায়, কোর্টের কাগজপত্র ঠিক মানুষটার হাতে ঠিক সময়ে পৌঁছানোই তার মূল দায়িত্ব।
এছাড়া জারীকারক নোটিশ পৌঁছেছে কি"না, সে বিষয়ে রিপোর্ট তৈরি করে আদালতে জমা দেয়া। প্রয়োজনে থানা, ইউনিয়ন পরিষদ বা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ করা লাগে—এটাই জারীকারকের ডেইলি লাইফ।
জারীকারক এর বেতন কতঃ
বাংলাদেশে জারীকারক পদটি সাধারণত ১৯ তম গ্রেডের সরকারি চাকরি। কিন্তু নতুন কাঠামো অনুযায়ী তাদের সর্বনিম্ন যে চাকরীর স্কেল আছে তারা সেটির কাছাকাছি আছে। বর্তমান পে-স্কেল অনুযায়ী তাদের স্কেল ৮,২৫০ টাকা - ১৮,০০০ টাকার কাছাকাছি তারা বেতন পেয়ে থাকে। এর সাথে আরো কিছু যোগ দেওয়া হয়।
যেমনঃ ভাতা, যাতায়াত ভাড়া, চিকিৎসা, সুযোজ-সুবিধা এর সাথে যুক্ত থাকে। কিন্তু এই বেতন আসতে আসতে বাড়তে থাকে। যত চাকরীর বয়স হবে তত বেতন বাড়বে আপনাদের।
জারিকারক এর গ্রেডঃ
জারিকারকের চাকরী হচ্ছে একটি সু-সন্মানের চাকরী হিসাবে ধরা যায়। এই চাকরী কিছু দায়িত্ব থাকে বিভিন্ন কোর্ট ও আদালতের পক্ষে। জারীকারকের প্রধান দায়িত্ব হলো তাকে কোর্টের অধিনে থাকতে হবে। এই চাকরী হচ্ছে ১৯ তম গ্রেডের একটা চাকরী। যা প্রায় সবাই পেতে ইচ্ছুক থাকে।
জারীকারক এর পদোন্নতিঃ
বাংলাদেশে জারীকারক (১৯ তম গ্রেড) পদে যোগ দেওয়ার পর অভিজ্ঞতা, ভালো কর্মদক্ষতা ও বিভাগীয় নিয়ম মেনে ধাপে ধাপে পদোন্নতির সুযোগ থাকে। সাধারণত কয়েক বছর (৫–৭ বছর বা অফিসের বিধি অনুযায়ী) চাকরি করলে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হওয়া যায়। অফিস সহায়ক ২০ তম গ্রেড হয়ে থাকে। এখন থেকে মানুষ আসতে আসতে পদোন্নতির দিকে আগায়।
পদ উন্নতি ক্ষেত্রে জেলা জজ সাহেব নিজে এই মূল সিদ্ধান্ত নেন। এর সাথে যুক্ত থাকে জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন ও এলডি। এরা ডিসিশন নেয় যে পদউন্নতি হতে পারবে কি"না। আপনি যদি সময় মতো অফিসে যান, সময় মেন্টেন করেন, স্যারের সাথে ভাল ব্যবহার আচারণ করবেন। আপনি দেখবেন ঠিক আপনার পদ উন্নতি হবে।
জারিকারক এর ভাইভাঃ
জারিকারক এর ভাইভা সাধারণত আপনার আইনের উপরে ভিত্তি করে প্রশ্ন করা হয়। ভাইভা হলে কখনো নার্ভাস হবেন না। যতটুকু আপনাকে প্রশ্ন করা হবে, আপনি চেষ্টা করবেন ততটুকু উত্তর দেওয়ার। ওভার কনভিডেন্স দেখানোর ভুল করবেন না। ভাইভা হলে আপনাকে তারা ফৌজদারি, কার্যবিধি, জারি করার প্রক্রিয়া, আদালতের আদেশ পালন, রিপোর্ট তৈরি করা, এই সব নিয়ে আপনার সাথে আলোচনা করতে পারে। এ ছাড়া ব্যাসিক কিছু আপনারও দায়িত্ব রয়েছে তাহলোঃ
- দায়িত্ববোধ ও আচরণ দেখানো
- কাজের বেসিক ধারণা রাখা
- আদালত ও সরকারি চাকরি সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান নেওয়া
- নিজের পরিচয় দেওয়া
- কেন জারিকারক হতে চাও?
- এই পদের কাজ কী?
- কাজ–সংক্রান্ত কি
- জারিকারকের প্রধান দায়িত্ব কী?
- নোটিশ ও সমনের পার্থক্য কী?
- জারি রিপোর্ট কী?
- আদালতের আদেশ মানা কেন জরুরি?
- কোর্টে শৃঙ্খলা কীভাবে বজায় রাখা হয়?
- জেলা জজ কোর্ট কী?
- সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব কী?
- সব প্রশ্নের উত্তর ছোট, পরিষ্কার ও আত্মবিশ্বাসির সাথে দেওয়া।
- না জানলে ভদ্রভাবে বলবে স্যার মনে করতে পারছি না।
- পোশাক ও ব্যবহার হবে অফিসিয়াল
এই সব কিছু জেনে আপনি ভাইভা দিতে যাবেন দেখবেন ইন্স আল্লাহ্ সব ভাল হবে।
জারিকারক এর পেনশন কতঃ
একজন জারীকারকের পেনশন কখনো কখনো একই থাকে না। এটি স্কেল যত হয় সে অনুযায়ী একজন চাক্রীজীবির পেনশন হয়ে থাকে। জারিকারক যেহেতু ১৯তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী, তাই তিনি সরকারি পেনশন বিধিমালার আওতায় পড়েন। পেনশনের অঙ্ক নির্ভর করে চাকরির মোট সময়, অবসরের সময়ের শেষ মূল বেতন, এবং তখনকার সরকারি নিয়মের ওপর।
সাধারণভাবে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরি শেষে অবসর নিলে মাসিক পেনশন হয় শেষ মূল বেতনের প্রায় ৫০%। উদাহরণ হিসেবে, অবসরের সময় যদি মূল বেতন ৯,৩০০–১০,৫০০ টাকার মতো হয়। তাহলে তিনি ৯,৩০০–১০,৫০০ টাকা পেনশন পেতে পারেন।
জারিকারক চাকরীর জন্য কি পাস করতে হবেঃ
বাংলাদেশে জারিকারক পদে আবেদন করতে সাধারণত আপনার এসএসসি (SSC) পাশ কিংবা এইচ এস সি (HSC) পাস হলেই হবে। পরে হয়তো পদ উন্নতির জন্য অনার্স বা ডিগ্রি সার্টিফিকেট প্রয়োজন পড়ে।কিছু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অষ্টম শ্রেণি পাশ থাকলেও আবেদন করা যায়, তবে এসএসসি থাকলে চান্স বেশি থাকে। শুধু আদালতে কাজ করলেই হবে না আইনের প্রতি জ্ঞান ও ধারণা রাখতে হবে আপনাকে।
অনেক সময় জারির কাজ সাজাতে হবে, নোটিশ তৈরি করতে হবে। নোটিশকে সঠিক জাইগায় পৌঁচ্ছাতে হবে। জারীকারকের চাকরীর জন্য আপনাকে লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক (ভাইভা) পরিক্ষায় টিকতে হবে। আর কাজের ক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন মুখে সব সময় হাসি রাখার।
লেখকের মক্তব্যঃ
আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন চাকরী করার ক্ষেত্রে এই জারীকারক এর কাজ কি ও কি কি দায়িত্ব থাকে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে জারীকারক এর বেতন কত টাকা।
প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।
আরো কিছু জানতে বা শিখতে চাইলে ভিজিট করুন............ www.stylishsm.com
( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )

স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।
comment url