বেঞ্চ সহকারী পদের কাজ কি - বেঞ্চ সহকারী কত তম গ্রেড? বিস্তারিত জেনে নিন?
আজকে আমরা জানবো যে চাকরীর করার ক্ষেত্রে এই বেঞ্চ সহকারী পদের কাজ কি ও এই পদে কি কি ফ্যাসালেটি আছে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে বেঞ্চ সহকারী কত তম গ্রেড ও এই পদে কাজ করলে কি ধরনের বেতন পাওয়া যাবে। আসুন জানি?
ভূমিকাঃ
আজকের দিনে কমবেশি সবাই চাকরীর পিছে ছুটে থাকে। এই চাকরী মানে হচ্ছে মানুষের কাছে জীবন নির্ধারণ, তাদের পরিবার চালানো একটি শক্তি, ও নিজের জীবন গড়া তোলার একটি সর্বোচ্চ প্রথম ধাপ। তাই এই চাকরীর পিছে ছুটে থাকে হাজার হাজার মানুষ।
তাই আসুন জেনে রাখি যে, চাকরী করার জন্য এই বেঞ্চ সহকারী পদের কাজ কি ও এই পদে কাজ নিতে হলে কি কি করতে হবে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানুন যে বেঞ্চ সহকারী কত তম গ্রেড ও পদের বেতন কত হয়ে থাকে। নিম্নে বিস্তারিত.........।
বেঞ্চ সহকারী পদের কাজ কিঃ
বেঞ্চ সহকারী পদটি সাধারণত আদালত বা বিচার বিভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।বেঞ্চ সহকারী আদালতের বিচারককে সরাসরি সহায়তা করেন। আদালতের মামলার মামলার সময় যারা বিচারকের সামনে থাকেন তারা হচ্ছে বেঞ্চ সহকারী হিসাবে ধরা হয়। এদের কাজ হলো সাধারণত নথি সাজানো, কেস ডায়েরি প্রস্তুত, হাজিরা রেকর্ড রাখা, মামলার কাগজ সাজানো, কাগজ পত্র ও দলিল- উপস্থাপন করা, এবং আদেশ-রায় লেখায় সহায়তা করা তার প্রধান দায়িত্ব।
প্রতিদিনের মামলার তালিকা (Cause List) ঠিকভাবে প্রস্তুত করাও বেঞ্চ সহকারীর কাজের মধ্যে পড়ে।এছাড়া আদালত চলাকালীন বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ, আইনজীবী ও আদালতের অন্যান্য কর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বয় করা, এবং রেজিস্টার ও সরকারি নথিপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও বেঞ্চ সহকারীর দায়িত্ব। সংক্ষেপে বললে, আদালতের কাজ যেন ঝামেলাহীন ও নিয়ম অনুযায়ী চলে এটাই বেঞ্চ সহকারীর মূল কাজ।
বেঞ্চ সহকারী কত তম গ্রেডঃ
চাকরী করার ক্ষেত্রে যারা একটি ভাল পড়াশুনে করেছেন তারা সব সময় চায় একটা ভাল মানের চাকরী নিতে। তাদের মধ্য এই বেঞ্চ সহকারী পড়ে। এই বেঞ্চ সহকারী চাকরী সরকারী চাকরী হয়ে থাকে, এটি সাধারণত বাংলাদেশের জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের দ্বারা আর্বিত করা হয়ে থাকে। এই চাকরী ১৬ তম গ্রেডের চাকরী যা সবার পাওয়ার ইচ্ছা থাকে। ও এর কাজও মান-সন্মানের কাজ। তাই বলা যায় এই ১৬ তম গ্রেডের চাকরী অনেক মূল্যবান মানুষের কাছে।
বেঞ্চ সহকারীর পেনশন কতঃ
বেঞ্চ সহকারীর পেনশনের নির্দিষ্ট অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়ে থাকে। এটা কয়েকটা বিষয়ের ওপর ডিপেন্ড করে। বাংলাদেশে বেঞ্চ সহকারী যেহেতু ১৬তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী, তাই তিনি সরকারি পেনশন বিধিমালার আওতায় পাবেন। সাধারণভাবে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরি শেষে অবসর নিলে শেষ মূল বেতনের ৯০% শতাংশ অনুযায়ী পেনশন নির্ধারিত হয়।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একজন বেঞ্চ সহকারীর পেনশন আনুমানিকভাবে শেষ মূল বেতনের ৯০% এর কাছাকাছি হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, যদি অবসরের সময় মূল বেতন হিসাবে বলা যায়?( ৪০,০০০ টাকা x ৯০%) ÷ ২ = ১৮,০০০ টাকা (চিকিৎসা ভাতা বা অন্যান্য যোগ/বিয়োগ ছাড়া)। এই টাকা তাদের পেনশন বলা যেতে পারে।
বেঞ্চ সহকারী পদোন্নতিঃ
বাংলাদেশে বেঞ্চ সহকারী (১৬তম গ্রেড) পদে চাকরি শুরু করার পর অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা ও বিভাগীয় পরীক্ষার ভিত্তিতে সরকারী নিয়মে পদোন্নতির সুযোগ থাকে। সাধারণত নির্দিষ্ট সময় (৫–৭ বছর বা বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী) চাকরি করলে এবং রেকর্ড ভালো থাকলে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন। সিনিয়র বেঞ্চ সহকারী / অফিস সহকারী উচ্চতর পদে উন্নতি হয়ে থাকে।
আপনার যদি পদ উন্নতি হাওয়ার থাকে। তাহলে সরকারী বিধি অনুযায়ী আপনার পরিক্ষা দিতে হবে। ভালো পারফরম্যান্স + সময়মতো চাকরি + বিভাগীয় নিয়ম মানলে আপনার পদ উন্নতি সিয়র।
বেঞ্চ সহকারীর ভাইভাঃ
আপনি যখন কোনো পরিক্ষার ভাইভা দিতে যাবেন। তখন আপনাকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়ে যেতে হবে। কেননা কে কোন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করবে তা ঠিক নেই। আসুন জেনেনি কিছু ভাইভার কথা?
- ভাইভার টিপসঃ
- নিজের পরিচয় দাও স্যারকে
- কেন বেঞ্চ সহকারী হতে চাও?
- শিক্ষাগত যোগ্যতা
- এই পদের কাজ কী?
- বেঞ্চ সহকারী কততম গ্রেড?
- বেঞ্চ সহকারীর দায়িত্ব কী কী?
- কোর্টে Cause List কী?
- রায় ও আদেশের পার্থক্য কী?
- জেলা জজ কোর্ট কী?
- দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার পার্থক্য
- আদালতের শৃঙ্খলা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- MS Word কেন ব্যবহার করা হয়?
- টাইপিং জানা কেন দরকার?
- অফিস নথি কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়?
- ভাইভায় ভালো করার টিপসঃ
- কথা বলবে শান্ত ও আত্মবিশ্বাসের সাথে
- উত্তর ছোট কিন্তু পরিষ্কার দিবেন
- না জানলে ঘুরিয়ে কথা না বলে ভদ্রভাবে বলবে
- পোশাক ও আচরণ হবে অফিসিয়াল
- আমি জানি না এই কথা কখনো বলবেন না। আপনি বলবেন মনে করতে পারছি না স্যার।
স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।
comment url