ভেড়ার মাংস খাওয়ার উপকারিতা - ভেড়ার মাংসে কি এলার্জি আছে? বিস্তারিত জেনে নিন?

আজকে আমরা জানবো যে মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে এই ভেড়ার মাংস খাওয়ার উপকারিতা কি কি হয়ে থাকে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে ভেড়ার মাংসে কি এলার্জি আছে এ কথাটি কতটুকু সত্যি আসুন জানি?

ভূমিকাঃ

আজকের দিনে মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ একটি বেশী পছন্দ করে থাকে। কিন্তু সবাই আবার এই ভেড়ার মাংস খাই না। কিন্তু না খেলেও বোঝা যায় না, শোনা যায় ভেড়ার মাংস অনেকটাই খাসির মাংসের মতো।

তাই আসুন জেনে রাখি যে, মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে এই ভেড়ার মাংস খাওয়ার উপকারিতা কি কি আছে ও এই মাংস খেলে কি হয়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানুন যে ভেড়ার মাংসে কি এলার্জি আছে। খাওয়া যাবে কি"না। নিম্নে বিস্তারিত.........। 

ভেড়ার মাংস খাওয়ার উপকারিতাঃ

ভেড়ার মাংস খাওয়ার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা রয়েছে, যা শরীরের জন্য উপকারী যখন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া হয়। ভেড়ার মাংসে উচ্চমাত্রার প্রোটিন থাকে, যা পেশি গঠন, ক্ষত সারাতে এবং শরীরকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ও ভিটামিন বি–১২ রক্তশূন্যতা দূর করতে রক্ত সঞ্চলতা গুণগত মান বাড়াতে সাহায্য করে।

ভেড়ার মাংসে জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে প্রয়োজনীয় ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় স্নায়ু ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নিয়মিত কিন্তু সীমিত পরিমাণে ভেড়ার মাংস খেলে শরীর কর্মক্ষম রোগ দূর হয় ও শরীর সুস্থ থাকে।

ভেড়ার মাংসে কি এলার্জি আছেঃ

হ্যাঁ, ভেড়ার মাংসে অ্যালার্জি হতে পারে, তবে এটা খুব বেশি পরিমাণে হয় না। কিছু মানুষের শরীর নির্দিষ্ট কিছু মাংস সহ্য করতে পারে না, ফলে ভেড়ার মাংস খাওয়ার পর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিতে পারে শরীরে। ভেড়ার মাংসে অ্যালার্জি হলে সাধারণত চুলকানি, ত্বকে লাল ফুসকুড়ি, বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে দেরিতে রিঅ্যাকশনও হতে পারে।

যদি ভেড়ার মাংস খাওয়ার পর এ ধরনের সমস্যা বারবার হয়, তাহলে সেই মাংস খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলা উচিত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। পরিমিত ও সঠিকভাবে রান্না করা ভেড়ার মাংস বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ।

ভেড়ার মাংসে রেসিপিঃ

ভেড়ার মাংস হোক কিংবা খাসির মাংস রান্না করতে পারলে সসব মাংসই ভাল লাগে খেতে। এই সব মাংস রান্না করার জন্য কিছু আলাদা রেসিপি ও ট্রিক আছে। যেটি আপনি ফলো করলে অবশ্যই ভাল মানের রান্না করতে পারবেন ও সবাই আপানার প্রশংসা করবে। আসুন জানি?

  • উপকরণঃ

  1. ভেড়ার মাংস – ১ কেজি
  2. পেঁয়াজ কুচি – ৪টি
  3. আদা বাটা – ১ টেবিল চামচ
  4. রসুন বাটা – ১ টেবিল চামচ
  5. কাঁচা মরিচ – ৫–৬টি
  6. দই – আধা কাপ
  7. মরিচ গুঁড়া – ১ চা চামচ
  8. হলুদ গুঁড়া – আধা চা চামচ
  9. ধনে গুড়া – ১ চা চামচ
  10. জিরা গুঁড়া – আধা চা চামচ
  11. গরম মসলা – সামান্য
  12. তেল – পরিমাণমতো
  13. লবণ – স্বাদমতো

  • রান্নার ধাপঃ

  1. প্রথমে ভেড়ার মাংস ভালো করে ধুয়ে নাও।
  2. কড়াইয়ে তেল দিয়ে পেঁয়াজ বাদামি করে ভাজো।
  3. আদা-রসুন বাটা ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ভালোভাবে কষাও।
  4. এবার সব গুঁড়া মসলা ও দই দিয়ে কষাতে থাকো, যতক্ষণ না তেল ছাড়ে।
  5.  মাংস দিয়ে মাঝারি আঁচে ভালো করে কষাও।
  6. পরিমাণমতো পানি দিয়ে ঢেকে দাও, নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করো।
  7. শেষে গরম মসলা ছিটিয়ে নামাও।

আপনি চাইলে এই মাংস মটন কারি, মটন কষা, কিংবা মটন কর্মা রান্না করেও খেতে পারবেন। গরম গরম ভেড়ার মাংসের ঝোল ভাত বা রুটির সাথে একদম পারফেক্ট কম্বো। চাইলে একটু লেবু বা কাঁচা মরিচ যোগ করলেই টেস্ট আরও জমে যায়।

ভেড়ার মাংস খাওয়ার অপউপকারিতাঃ

ভেড়ার মাংস অতিরিক্ত খেলে কিছু অপউপকারিতা হতে পারে। এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকায় বেশি খেলে হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া ভেড়ার মাংস হজমে ভারী হওয়ায় যাদের গ্যাস্ট্রিক, বদহজম বা লিভারের সমস্যা আছে, তাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে কারণ এতে চর্বির মান বেশি থাকে। তাই সুস্থ থাকতে ভেড়ার মাংস পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।

ভেড়ার মাংস খাওয়া কি হালালঃ

হ্যাঁ, ভেড়ার মাংস খাওয়া হালাল ও বৈধ, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ভেড়া একটি হালাল প্রাণী। তবে শর্ত হলো, ভেড়াটি সঠিক ইসলামি নিয়মে জবাই করতে হবে। আল্লাহর নাম নিয়ে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে, রক্ত সম্পূর্ণ বের করতে হয় ও কুরবানি দেওয়ার সময় অবশ্যই দোয়া পড়তে হবে।

যদি ভেড়া হালালভাবে জবাই করা হয়, তাহলে তার মাংস খাওয়া পুরোপুরি জায়েজ। তাই সোর্স আর জবাইয়ের নিয়ম ঠিক থাকলেই নো টেনশন, নিশ্চিন্তে খেতে পারবে।

ভেড়ার মাংসে কি কোলেস্টরল আছেঃ

হ্যাঁ, ভেড়ার মাংসে কোলেস্টেরল থাকে। ভেড়ার মাংস একটি লাল মাংস হওয়ায় এতে স্বাভাবিকভাবেই কোলেস্টেরল ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। কিন্তু বেশি পরিমাণে খেলে এটি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

তবে পরিমিত পরিমাণে এবং কম চর্বিযুক্ত অংশ বেছে নিয়ে ভেড়ার মাংস রান্না করে খেলে সাধারণত সুস্থ মানুষের জন্য বড় কোনো সমস্যা হয় না। ও এটি শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বাড়াতে সাহায্য করে।

ভেড়ার মাংস কত টাকা কেজিঃ

ভেড়া হোক কিংবা খাসির মাংস এই গুলো মাংসের বাজার কখনো এক থাকে না। এর দাম সময় সময় ওঠা নামা করে। কিন্তু এখন বর্তমানে বাজারের দাম অনুযায়ী ভেড়ার মাংস ১,১০০ - ১,৪০০ টাকা কিংবা তারও বেশি হতে পারে। তাই আপনি চাইলে যদি এই ভেড়ার মাংস কিনতে জান বাজারে। তাহলে অবশ্যই টাকার পরিমান বেশি করে নিয়ে যাবেন।

লেখকের মক্তব্যঃ

আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে এই ভেড়ার মাংস খাওয়ার উপকারিতা কি কি। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে ভেড়ার মাংসে কি এলার্জি আছে কি"না।

প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।

আরো কিছু জানতে বা শিখতে চাইলে ভিজিট করুন............ www.stylishsms.com



( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।

comment url