আজকে আমরা জানবো যে মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে এই খাসির মাংস রান্নার রেসিপি কি কি হয় ও কিভাবে সুস্বাদু ভাবে রান্তে হয়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে খাসির মাংস রান্না করতে কি কি লাগে ও কি ধরনের মসলা প্রয়োজন। আসুন জানি?
ভূমিকাঃ
আমরা সকলেই ভাতের সাথে বেশি মানুষ মাংস খেতে পছন্দ করে থাকে। কেননা মাংস খাওয়ার স্বাদ একটা আলাদা হয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশের মাংস বিয়ার অনুষ্ঠানে এই খাসির মাংস বেশি পছন্দ করে থাকে।
তাই আসুন জেনে রাখি যে, পছন্দের এই খাসির মাংস রান্নার রেসিপি কিভাবে তৈরি করবেন ও কিভাবে সুস্বাদু ভাবে রান্না করবেন। ও তার সাথে সাথে এটাও জানুন যে খাসির মাংস রান্না করতে কি কি লাগে ও কিভাবে রান্না করতে হয়। নিম্নে বিস্তারিত.........?
খাসির মাংস রান্নার রেসিপিঃ
খাসির মাংস রান্না করতে সবাই পারে না সবার হাতে সেই জাদু থাকে না। এই মাংস রান্না করার জন্য কিছু মসলা দিতে হয়। আসুন এর রান্না করার জাদু ও রেসিপি জেনে নিন?
- খাসির মাংস: ১ কেজি (হাড়সহ বা সলেট মাংস)
- পেঁয়াজ বাটা: ১ কাপ (৪-৫টি মাঝারি)
- রসুন বাটা: ২ টেবিল চামচন
- আদা বাটা: ১ টেবিল চামচ
- দই: ১/২ কাপ (মাংস নরম করতে)
- টক দই/লেবুর রস: ২ টেবিল চামচ
- গরম মসলা গুঁড়া: ১ চা চামচ (দারচিনি, লবঙ্গ, জায়ফল, জয়ত্রী)
- ধনেপাতা ও কাঁচা মরিচ: কুচি
- তেল: ১/২ কাপ
- লবণ: স্বাদমতো
- মসলা গুঁড়া: স্বাদ মতো
- জিরা গুঁড়া: ১ চা চামচ
- ধনিয়া গুঁড়া: ২ চা চামচ
- লাল মরিচ গুঁড়া: ১-২ চা চামচ (স্বাদ অনুযায়ী)
- হলুদ গুঁড়া: ১/২ চা চামচ
- গরম মসলা গুঁড়া: ১ চা চামচ
১. মাংস প্রস্তুত: মাংস ভালোভাবে ধুয়ে পানিতে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন, রক্ত ও গন্ধ দূর হবে।
২. ম্যারিনেট: দই, লবণ, আদা-রসুন বাটার অর্ধেক ও হলুদ মাংসে মাখিয়ে ১ ঘণ্টা রাখুন।
৩. তেল গরম করে পেঁয়াজ বাটা সোনালি করে ভাজুন।
৪. বাকি আদা-রসুন ও সব মসলা গুঁড়া ২ মিনিট ভাজুন।
৫. রাখা মাংস মসলার সাথে যোগ করে ৫-৭ মিনিট ভালোভাবে ভাজুন।
৬. পানি দিন: মাংস ডুবে যতটুকু পানি, তার ২ কাপ পানি দিন।
৭.গরম পানি দিলে মাংস নরম হবে দ্রুত।
৮. সিদ্ধ করুন: ঢাকনা দিয়ে মাঝার আঁচে ৪০-৫০ মিনিট সিদ্ধ করুন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিন।
৯. শুকনো করুন: মাংস নরম হলে আঁচ বাড়িয়ে রস শুকিয়ে ভুনা করুন, তেল উঠলে নামান।
১০. গরম মসলা গুঁড়া, ধনেপাতা ও কাঁচা মরিচ ছড়িয়ে দিন।
১১. রুটি, পরোটা বা পোলাওয়ের সাথে গরম গরম পরিবেশন করুন।
মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজ পেস্ট ১ কাপ, কাঁচা পেঁয়াজ ২টি (স্লাইস), দই ১ কাপ, কাশ্মীরি লাল মরিচ ১ চা চামচ, বাদাম পেস্ট ২ টেবিল চামচ, মালাই/ক্রিম ১/৪ কাপ, ঘি ৪ টেবিল চামচ। এই সব একসাথে মিশিয়ে রান্না করলে যে খাবে সে প্রশংসা না করে থাকতে পারবে না।
খাসির মাংস রান্না করতে কি কি লাগেঃ
খাসির মাংস রান্না করতে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন ধরনের জিনিস ব্যবহার করে থাকে। তাই যেটি সবার জন্য সহজ হবে। আজকে আমি সেটি নিয়ে আপনাদের কাছে হাজির হলাম। আসুন জানি?
উপকরণ পরিমাণ (১ কেজি মাংসের জন্য) ব্যবহার
খাসির মাংস ১ কেজি হাড়সহ বা বোনলেস (রান, কাঁধ, ছাতি)
লবণ ১ চা চামচ প্রাথমিক ধোয়া ও ম্যারিনেটে
হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ রঙ ও গন্ধের জন্য
ভিনেগার/লেবুর রস ২ টেবিল চামচ মাংসের গন্ধ দূর করতে
পানি পর্যাপ্ত ধোয়া ও সিদ্ধ করার জন্য
- তাজা মসলা (Fresh Ingredients)
- পেঁয়াজ ৪-৫টি মাঝারি বাটা বা কুচি (ভুনার ভিত্তি)
- রসুন ১০-১২ কোয়া বাটা বা পেস্ট
- আদা পেস্ট
- কাঁচা মরিচ ৪-৫টি গোটা বা কুচি (স্বাদ অনুযায়ী)
- টমেটো ২টি (ঐচ্ছিক) পিউরি বা কুচি
- ধনেপাতা ১/২ কাপ কুচি (গার্নিশিং)
- পুদিনা পাতা ১/৪ কাপ (ঐচ্ছিক) স্বাদের জন্য
- ভাঁজা পেয়াজ
- কাজু বাদাম পেস্ট
- রান্না করার পরে তার দিয়ে ঘি দিবেন
এই ভাবে আপনি যদি রান্না করতে পারেন তাহলে দেখবেন অবশ্যই আপনার হাতের রান্না ভাল হবে ও সবাই পছন্দ করবে।
খাসির মাংসে কি দিলে তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়ঃ
খাসির মাংস রান্না ভাল হলে খেতে ইচ্ছা করে না কারো কারো। কিন্তু সঠিক নিময়ে রান্না করলে দেখবেন আপনার হাতের রান্না অবশ্যই ভাল হবে। খাসির মাংস দ্রুত নরম/সিদ্ধ করার কার্যকরী উপায় নিম্নে দেখে নিন?
সবার আগে আপনি রান্না করার সময় মাংসের সাথে দই + পেপেইন (পেঁপে বাটা/পাউডার) বেকিং সোডা, চিনি, ভেনাগার ইত্যাদি এই সব কিছু দিতে পারেন।
১. ভিজিয়ে রাখা মাংস প্রেশার কুকারে দিন।
২. পর্যাপ্ত পানি (মাংস ডোবানো পর্যন্ত) দিন।
৩. ৫-৬ সিটি (হিসিং সাউন্ড) হওয়া পর্যন্ত উচ্চ আঁচে রান্না করুন।
৪. আঁচ কমিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন।
৫. প্রেশার স্বাভাবিকভাবে ছাড়তে দিন, তারপর খুলুন।
এই পদ্ধতি মেনে চললে অর্ধেক সময়ে নরম, রসাল ও সুস্বাদু খাসির মাংস পাবেন। রান্নার সময় মাংসের প্রকার (হাড়/বোনলেস) ও টুকরার সাইজ হিসাবে রাখুন। যাতে সবাই এই সুস্বাদু মাংসের মজা সবাই নিতে পারে।
খাসির মাংস খেলে কি ক্ষতি হয়ঃ
খাসির মাংস পুষ্টিকর হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিছু ক্ষতি হতে পারে। খাসির মাংসে চর্বি ও কোলেস্টেরল তুলনামূলক বেশি থাকায় নিয়মিত বেশি খেলে ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যাদের গ্যাস্ট্রিক, ইউরিক অ্যাসিড বা লিভারের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে খাসির মাংস হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়া অতিরিক্ত মশলা দিয়ে রান্না করা খাসির মাংস বুকজ্বালা ও বদহজম বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যাদের ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা আছে তবে পরিমিত পরিমাণে ও সঠিকভাবে রান্না করে খেলে সাধারণত তেমন ক্ষতি হয় না।
খাসির মাংস রান্নার নিয়মঃ
খাসির মাংস সঠিকভাবে রান্না করলে মাংস নরম, সুস্বাদু আর হজমেও সহজ হয়। প্রথমে খাসির মাংস ভালোভাবে ধুয়ে লবণ ও হলুদ মাখিয়ে ১০–১৫ মিনিট রেখে দিন। এতে কাঁচা গন্ধ কমে যায়। এরপর একটি বাটিতে পেঁয়াজ বাটা, আদা-রসুন বাটা, মরিচ বাটা, ধনে-জিরা গুঁড়া ও সামান্য দই মিশিয়ে মাংস ভালোভাবে মাখিয়ে ৩০–৬০ মিনিট পাতিল দিয়ে ভালভাবে ঢাকুন কিংবা একসাথে মাখিয়ে রাখুন।
এখন হাঁড়ি বা প্রেসার কুকারে তেল গরম করে পেঁয়াজ ভেজে নিন। পেঁয়াজ হালকা বাদামি হলে মেরিনেট করা মাংস দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে কষাতে থাকুন যতক্ষণ না মাংস থেকে তেল ছাড়ে। এরপর প্রয়োজনমতো গরম পানি দিয়ে ঢেকে দিন। প্রেসার কুকারে হলে ৪–৬ সিটি, আর সাধারণ হাঁড়িতে হলে ৪৫–৬০ মিনিট রান্না করুন।
মাংস নরম হলে গরম মসলা ও সামান্য ঘি দিয়ে নামিয়ে নিন। এভাবে রান্না করলে খাসির মাংস হবে ঝরঝরে, নরম আর দারুণ টেস্টি হবে।
খাসির মাংসে কোন মসলা বেশি দিতে হয়ঃ
খাসির মাংস রান্নায় স্বাদ আনতে কিছু মসলা তুলনামূলক বেশি দিতে হয়। কারণ এই মাংসের গন্ধ ও ফাইবার একটু শক্ত হয়। সাধারণত খাসির মাংসে পেঁয়াজ, আদা ও রসুন, গোলমরিচ, সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় এগুলো মাংস নরম করে আর গন্ধ কমায়।
এর সঙ্গে ধনে গুঁড়া ও জিরা গুঁড়া স্বাদ বাড়াতে বেশি লাগে। ঝাল পছন্দ হলে লাল মরিচ গুঁড়া পরিমাণমতো দেওয়া যায়। কষা মাংসের জন্য গরম মসলা (দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ) খুব গুরুত্বপূর্ণ, তবে এগুলো অল্প দিলেই যথেষ্ট। অনেকেই নরম করার জন্য দই বা কাঁচা পেঁপে ব্যবহার করেন।
খাসির মাংসে সবচেয়ে বেশি দরকার হয় পেঁয়াজ–আদা–রসুন আর ধনে–জিরা, বাকিগুলো স্বাদের জন্য পরিমিত দিলেই মাংস হবে সুস্বাদু।
খাসির মাংসে কি এলার্জি আছেঃ
সাধারণভাবে খাসির মাংসে এলার্জি খুবই বিরল ভাবে থাকে। এটি আলফা-গ্যাল সিনড্রোম হিসাসবে ধরা যায়। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের শরীর নির্দিষ্ট প্রাণিজ প্রোটিন সহ্য করতে পারে না, তারা খাসির মাংস খেলে চুলকানি, ত্বকে ফুসকুড়ি, বমিভাব, পেট ব্যথা বা ডায়রিয়া অনুভব করতে পারেন। আবার অতিরিক্ত মশলা দিয়ে রান্না করা খাসির মাংস অনেক সময় এলার্জি নয়, বরং মসলার প্রতিক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করে।
যদি খাসির মাংস খাওয়ার পর বারবার অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট বা ত্বকের সমস্যা হয়, তাহলে সেটি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। তবে অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে খাসির মাংস সাধারণত নিরাপদ।
লেখকের মক্তব্যঃ
আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন মাংস রান্না করার ক্ষেত্রে খাসির মাংস রান্নার রেসিপি কি কি হয়ে থাকে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে খাসির মাংস রান্না করতে কি কি লাগে মসলা।
প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।
( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )
স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।
comment url