চিরতার পাতা খেলে কি হয় - খালি পেটে চিরতা খাওয়ার উপকারিতা? জেনে নিন বিস্তারিত?

আজকে আমরা জানবো যে আমাদের শরীর ঠিক রাখার জন্য ও রোগ প্রতিরোধের জন্য চিরতার পাতা খেলে কি হয় আমাদের শরীরে। ও তার সাথে সাথে এটাই জানবো যে খালি পেটে চিরতা খাওয়ার উপকারিতা কি। যেটি খাওয়ার সাজেশন সব ডাক্তারেরা দিয়ে থাকে। আসুন জানি?

ভূমিকাঃ

আমরা যখন বেশি কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে যায় তখন সবাই এই চিরতার পাতা খাওয়ার কথা বলে। বিশেষজ্ঞরা বলেগেছে যে, এই চিরতার পাতা এক ধরনের ভিটামিন ও মেডিশিন হিসাবে আমাদের শরীরে কাজ করে। যা জ্বর,সর্দি,কাশি খুব অল্প সময়ের মধ্য ঠিক করতে সক্ষম।

গর্ভাবস্থায়-চিরতা-খেলে-কি-হয়
গর্ভাবস্থায়-চিরতা-খেলে-কি-হইয়       
তাই আসুন জেনে রাখি, আমাদের শরীর থেকে রোগ প্রতিরোধ করতে ও চিরতার পাতা খেলে কি হয় আমাদের শরীরে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানুন যে খালি পেটে চিরতা খাওয়ার উপকারিতা কি এবং কেন আমরা এই চিরতার পাতা খাব। নিম্নে বিস্তারিত............।

গর্ভাবস্থায় চিরতা খেলে কি হয়ঃ

গর্ভাবস্থায় চিরতা খাওয়া নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন অবশ্যই করা উচিত। চিরতা তিক্ত ভেষজ উদ্ভিদ, খাবার যা সাধারণত জ্বর, হজমের সমস্যা ও শরীর পরিশুদ্ধ করার জন্য খেতে হয়। তবে গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি নিরাপদ নয় বলে চিকিৎসকরা মনে করেন। কারণ চিরতা জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে পারে পাটের মধ্য। যা গর্ভপাত বা প্রি-ম্যাচিউর বাচ্চার ডেলিভারির ঝুঁকি বাড়ায়।

এছাড়া চিরতা খেলে শরীরে অতিরিক্ত তিক্ততার কারণে বমি বমি ভাব,যৌন স্বাস্থ্যর ক্ষতিকারক কিংবা ডায়রিয়া বা হজমের সমস্যা হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় চিরতা খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো এবং যেকোনো ভেষজ খাবার বা ঔষধ গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চিরতা খাওয়ার অপকারিতাঃ

চিরতার পাতা খেলে কি হয় আমাদের শরীরে সেটি আমরা ভাল করে জানি। চিরতার পাতা খাওয়া ভাল এটি আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের রোগ বালাই দূর করে থাকে। কিন্তু চিরতা খাওয়ার কিছু উপকারিতা থাকলেও অতিরিক্ত বা ভুলভাবে খেলে এর বেশ কিছু অপকারিতা দেখা দিতে পারে। নিচে প্রধান অপকারিতাগুলো দেওয়া হলোঃ

  1. চিরতার পাতা খুব তিক্ত হওয়ায় এটি খেলে অনেকের বমি বমি ভাব, অরুচি বা খিদে নষ্ট হতে পারে।
  2. চিরতার পাতা অতিরিক্ত সেবনে ডায়রিয়া, পেট ব্যথা বা গ্যাস্ট্রিকের হজমের সমস্যা বাড়তে পারে পেটে।
  3. চিরতা রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। তাই ডায়াবেটিসের ওষুধ খাওয়ার সময় অতিরিক্ত চিরতা খেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগ হতে পারে।
  4. চিরতার পাতা গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এটি জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে পারে, ফলে গর্ভপাতের আশঙ্কা থাকে।
  5. দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চিরতার পাতা খেলে শরীরে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি আসতে পারে।
  6. কিছু ওষুধের (যেমন: ডায়াবেটিস, রক্তচাপ বা এন্টিবায়োটিক) কার্যকারিতায় সাইড ইফেক্ট ঘটাতে পারে।
  7. যারা চিরতার পাতা প্রতিদিন খেয়ে থাকেন। তারা অন্য কোনো ঔষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

আরেকটা কথা মনে রাখবেন যে কোনো জিনিস সেটি হোক ঔষুধ কিংবা অন্য কিছু কখনো বেশি মাত্রায় খাবেন না। আর খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

চিরতার রস খাওয়ার নিয়মঃ

চিরতার পাতা খেলে কি হয় ও এটি কিভাবে কাজ করে সেটি আমরা জানি। এবার জানবো যে চিরতার রস খেলে আমাদের শরীরে কি উপকার হয়। চিরতা হচ্ছে খুব তিক্ত ওষধি গাছ, তাই এটি সঠিক নিয়মে খাওয়া জরুরি। সাধারণত চিরতার রস বা পানি শরীর ঠান্ডা রাখা, হজমের উন্নতি, জ্বর কমানো এবং রক্ত পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত হয়। আসুন খাওয়ার নিয়ম গুলো জেনে নি?

  • ৫-৬ টুকরা শুকনা চিরতা রাতে ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
  • সকালে খালি পেটে সেই পানি ছেঁকে খেতে হবে।
  • এতে শরীর ঠান্ডা থাকে, রক্ত পরিষ্কার হয় এবং হজমশক্তি ভালো হয়।
  • আধা থেকে ১ চা চামচ রস সামান্য গরম পানির সাথে খাওয়া যায়।
  • এটি জ্বর, অরুচি ও চর্মরোগে উপকারী।
  • শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • লিভার পরিষ্কার ও সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করে।
  • ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা থাকলে তা সমাধান করার ক্ষমতা রাখে।
  • চিরতা খুব বেশি তিক্ত, তাই অতিরিক্ত খেলে পেটের সমস্যা, দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা হতে পারে। তাই পরিমাণ মতো খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
  • পানিতে অল্প চিরতা সেদ্ধ করে চায়ের মতো বানিয়েও খাওয়া যায়।

চিরতা কতদিন খাওয়া যায়ঃ

চিরতার পাতা খেলে কি হয় ও এটি কতদিন খাওয়া উচিত আজকে সেটি আমরা জানবো। সবার আগে জেনে নিন যে চিরতা একটি তিতো ও ভেষজ ঔষধি, যা সাধারণত শরীর ঠান্ডা রাখা, জ্বর কমানো, রক্ত পরিষ্কার করা ও হজমশক্তি ভালো করার জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে এটি নিয়মিত ও দীর্ঘদিন খাওয়া উচিত নয়।সাধারণভাবে ১০ - ১৫ দিন পর্যন্ত টানা খাওয়া নিরাপদ বলে বিবেচনা করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। 

এর বেশি সময় খেলে শরীরে দুর্বলতা, রুচি কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগা বা হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস, লো ব্লাড প্রেসার বা গর্ভাবস্থা রয়েছে, তাদের চিরতা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কেননা চিরতা খাওয়া সবসময় অল্প সময়ে সীমিত রাখা ভালো এবং প্রয়োজনে কয়েক সপ্তাহ বিরতি দিয়ে আবার আপনি খেতে পারবেন।

অর্থাৎ, চিরতা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিদিন খাওয়ার জন্য নয়, বরং অল্পদিনের জন্য ভেষজ চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

চিরতা কি লিভারের জন্য ভালঃ

হ্যাঁ, চিরতা লিভারের জন্য উপকারী একটি ভেষজ। এটি লিভার পরিষ্কার করতে, শরীরের টক্সিন দূর করতে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের ফ্যাটি লিভার, জন্ডিস বা হেপাটাইটিসের মতো সমস্যার ঝুঁকি থাকে। তাদের জন্য চিরতা সীমিত সময়ে খাওয়া উপকার দিতে পারে। চিরতা লিভারের এনজাইমকে স্বাভাবিক রাখতে এবং হজম প্রক্রিয়া ভালো করতে সাহায্য করে।

তবে মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত বা দীর্ঘদিন চিরতা খেলে লিভারের উপর চাপ পড়তে পারে এবং শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই এটি সবসময় নির্দিষ্ট সময় ও পরিমাণ মেনে খাওয়া উচিত এবং কোনো গুরুতর লিভারের সমস্যায় পড়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

লেখকের মক্তব্যঃ

আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন চিরতার পাতা খেলে কি হয় ও কতটা উপকার পাই আমাদের শরীর। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে খালি পেটে চিরতা খাওয়ার উপকারিতা কি কি।

প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।

আরো কিছু জানতে বা শিখতে চাইলে ভিজিট করুন............... www.stylishsm.com



( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )











এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।

comment url