সাইকোলজির বাংলা অর্থ কি - সাইকোলজির এর কাজ কি? বিস্তারিত জেনে নিন?

আজকে আমরা জানবো যে সাইকোলজির বাংলা অর্থ কি ও এটি পড়ে মানুষ কি কি করতে পারে ও তাদের কি কি শক্তি পাওয়া যায়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে সাইকোলজির এর কাজ কি ও এটি কিভাবে মানুষকে নিজের আয়ত্তে আনতে সাহায্য করে। আসুন জানি?

ভূমিকাঃ

আজকের দিনে কিছু ছেলে ও মেয়ে আছে যারা মনোবিজ্ঞান পড়তে অনেক আগ্রহী। তারা মানুষের নেচার ও হিউম্যান শক্তি বা তার চিন্তা ভাবনাকে বুঝতে চাই। আর এটি বুঝতে হলে আপনাকে ১০০% মনোবিজ্ঞান পড়তে হবে। তাছাড়া কারো চিন্তা ভাবনা আপনি কখনো বুঝতে পারবেন না।

তাই আসুন জেনে রাখি যে, মানুষের মস্তিস্ক ও চিন্তা ভাবনা বুঝতে হলে সাইকোলজির বাংলা অর্থ কি ও  সাইকলোজি কি আগে আপনাকে এটা বুঝতে হবে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানুন যে সাইকোলজির এর কাজ কি ও এটি কিভাবে মানুষের হিউম্যান বুদ্ধিকে সহজে ধরে নেয়। নিম্নে বিস্তারিত............?

সাইকোলজির বাংলা অর্থ কিঃ

সাইকোলজির মানে হচ্ছে কারো মন বোঝার ক্ষমতা রাখা। এই সাইকোলজি অর্থ হলো মনবিজ্ঞান বা মনস্তত্ত্ব। যা মানুষের হিউম্যান কথা ও আচারণ দেখা কিছু মানুষের স্বভাব ধারণা করা যায়। এটি মনোবিজ্ঞান এমন একটি শাস্ত্র, যেখানে মানুষের মন, আচরণ, চিন্তা ও অনুভূতি নিয়ে অধ্যয়ন করা হয়। এটি সাইক্রাটিস বা মানুষের মন বা মানুষের ভিতরে কি চলছে সেটি বোঝার জন্য এটি চিকিৎসা হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

সাইকোলজির এর কাজ কিঃ

সাইকোলজির এর কাজ বর্তমানে মানুষের মন বোঝার ক্ষমতাকে বোঝায়। এই সাইকোলজি দ্বারা আপনি চাইলে খুব সহজে কারো মনের কথা বুঝতে পারবেন। এই সাইকোলজি পড়লে আপনি মানুষের মন, আচারণ, স্বভাব, চিন্তা, মানুষের ভালবাসা হিসাবে ভাল জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। আপনি সাইকোলিজ দ্বারা যেকোনো বিষয়কে খুব সহজে প্রস্তবনা করতে পারবেন সবার সামনে।

সাইকোলজি পড়লে আপনি খুব সহজে মানুষের ভুল কাজ বা কথা ইজিভাবে ধরতে পারবেন ।সহজভাবে বললে, মনোবিজ্ঞান আমাদের শেখায় মানুষ কেন কীভাবে ভাবে, কেন এমন আচরণ করে এবং কিভাবে তার মানসিক অবস্থা কাজ করে। সাইকোলজির প্রধান কাজগুলো মানুষের চিন্তা ও আবেগ বোঝা, আচরণের কারণ খুঁজে বের করা, মানসিক সমস্যা (স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা, ডিপ্রেশন) সমাধানে সাহায্য করা।

এর সাথে সাথে মানুষের ব্যক্তিত্ব ও অভ্যাস বিশ্লেষণ করা, শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানুষকে উন্নত করতে সহায়তা করা সাইকোলজির কাজ হলো মানুষের মন ও আচরণ বুঝে তাকে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া।

মানুষের সাইকোলজি বোঝার উপায়ঃ

মানুষের সাইকোলজি বোঝার উপায় হলো আপনাকে মানুষের মন ও তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দ্বারা কথা ধরার ক্ষমতা রাখতে হবে। প্রথমত, মনোযোগ দিয়ে শুনুন (Active listening)। কেউ কথা বললে শুধু উত্তর দেওয়ার জন্য না, বরং তার অনুভূতি ও ভাব বুঝতে চেষ্টা করুন। মানুষ কী বলছে তার চেয়ে কেন বলছে এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

দ্বিতীয়ত, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ লক্ষ্য করুন সে আপনার সাথে কিভাবে কথা বলছে, চোখের দৃষ্টি, মুখের অভিব্যক্তি, হাত-পায়ের নড়াচড়া এসব অনেক সময় কথার চেয়েও বেশি সত্যি বলে দেয়। তৃতীয়ত, আচরণের প্যাটার্ন ধরুন। একজন মানুষ বারবার একইভাবে রিয়্যাক্ট করলে বুঝবেন এটা তার স্বভাবের অংশ। যেমন—কেউ চাপ পেলেই চুপ হয়ে যায়, কেউ আবার রেগে যায়। কেউ আবার ঠান্ডা মাথায় বুঝে নেয়। 

চতুর্থত, সহানুভূতিশীল হন (Empathy)। নিজেকে তার জায়গায় কল্পনা করে দেখুন তাহলে তার অনুভূতি বুঝতে সহজ হবে এবং তাকে কোনো কিছু বোঝাতে সহজ হবে। পঞ্চমত, তাকে প্রশ্ন করুন কিন্তু বিচার করবেন না। খোলামেলা প্রশ্ন করলে মানুষ নিজের কথা সহজে বলে, কিন্তু বিচার করলে তারা গুটিয়ে যায় এবং সে সত্যি কথাটি লুকানোর চেষ্টা করে।

যার সাথে কথা বলছেন তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সময় দিন। একদিনে কাউকে পুরো বোঝা যায় না। তাই সময় নিয়ে দেখলে বা কথা বললে আসল স্বভাব ধরা পড়ে।

সাইকোলজির কত প্রকারঃ

সাইকোলজি মানে হচ্ছে মনবিজ্ঞান বা মানুষের মন বোঝার ক্ষমতাকে বোঝায়। এর বিভিন্ন শাখা ও প্রকারভেদ রয়েছে। সাইকোলজি (মনোবিজ্ঞান) অনেক ধরনের হয়, কারণ মানুষের মন ও আচরণ খুবই জটিল। সহজভাবে প্রধান কয়েকটি প্রকার নিচে দেওয়া হলোঃ

  • ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি (Clinical Psychology)

      মানসিক রোগ (ডিপ্রেশন, উদ্বেগ ইত্যাদি) নির্ণয় ও চিকিৎসা নিয়ে কাজ করে।

  • এডুকেশনাল সাইকোলজি (Educational Psychology)

      শিক্ষার্থীদের শেখা, স্মৃতি ও পড়াশোনার আচরণ নিয়ে কাজ করে।

  • ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি (Developmental Psychology)

     শিশুকাল থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত মানুষের মানসিক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করে।

  • সোশ্যাল সাইকোলজি (Social Psychology)

     সমাজে মানুষ কিভাবে আচরণ করে ও অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হয় তা নিয়ে কাজ করে।

  • কগনিটিভ সাইকোলজি (Cognitive Psychology)

     চিন্তা, স্মৃতি, সমস্যা সমাধান ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করে।

  • ইন্ডাস্ট্রিয়াল/অর্গানাইজেশনাল সাইকোলজি (Industrial Psychology)

    কর্মক্ষেত্রে মানুষের আচরণ, কাজের দক্ষতা ও মনোভাব নিয়ে কাজ করে।

  • কাউন্সেলিং সাইকোলজি (Counseling Psychology)

   ব্যক্তিগত সমস্যা, স্ট্রেস ও জীবনযাপনের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।

সাইকোলজি পড়ে মানুষ মানুষের ফিলিংন্স ও আবেগ বিবেক বুঝতে পারে। তাই সাইকোলজি পড়া অনেক ক্ষেত্রে ভাল কাজ।

হিউম্যান সাইকোলজি মানে কিঃ

হিউম্যান সাইকোলজি মানে হলো এক কথায় বললে মানুষ যেটা দেখাতে চাই সবাইকে কিন্তু ব্যাস্তবে সে কোনো কিছু নিজের মনে বোঝায়। হিউম্যান সাইকোলজি মানে হলো মানুষের মন, চিন্তা, আচরণ ও অনুভূতি কীভাবে কাজ করে—তা বোঝার বিষয়। মনোবিজ্ঞান এর যে অংশটি বিশেষভাবে মানুষের আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে, সেটাই হিউম্যান সাইকোলজি।

  1. মানুষ কেন এমন আচরণ করে
  2. কীভাবে চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেয়
  3. কীভাবে আবেগ (রাগ, ভালোবাসা, ভয়) কাজ করে
  4. অন্য মানুষের সাথে সম্পর্ক কেমন গড়ে ওঠে
  5. কোনো মানুষ বেশী হাসলে সবাই তাকে সুখি মনে করে কিন্তু তার মধ্য দুঃখের পাহাড় আছে।
  6. কোনো ব্যাক্তি যদি অল্পতেই রেগে যায় তাহলে তার যত্ন ও ভালাবাসার দরকার আছে।
  7. কোনো মানুষ যদি সময়ের বেশি ঘুমায় তাহলে সে খুব দুঃখে আছে এটা সিয়র।
  8. কোনো মানুষ যদি একবারের জন্য চুপ হয়ে যায় তাহলে ভেবে নিয়েন সে একটা অনেক বড় দুঃখ পেয়েছে জীবনে।
  9. কোনো মানুষ যদি অল্পতেই কেঁদে ফেলে তাহলে বুঝবেন সে খুব নরম মনের মানুষ একটা।
  10. যদি কোনো মানুষ নিজের রাগ চেপে রাখে তাহলে ভাববেন তার মধ্য অভিমানী ভাব আছে।

হিউম্যান সাইকোলজি হলো মানুষের মন ও আচরণ বোঝার বিজ্ঞান। যা একবার বুঝে  নিলে আপনি সবার থেকে আলাদা ফিল করবেন ও নিজেরও ভাল লাগবে।

সাইকোলজি পড়ে কি হওয়া যায়ঃ

সাইকোলজি পড়ে কি হওয়া যায় এটি অনেকের প্রশ্ন থেকে যায় মনে। দেখেন সাইকোলজি হচ্ছে মনবিজ্ঞান যা মনের ভাবকে প্রকাশ  করে মন দ্বারা। এটি আপনার জানা থাকলে অনেক কিছু ডিশিসন নিতে পারবেন ও অন্যদের ভাল কিছু সাজেস্ট করতে পারবেন। সাইকোলজি (মনোবিজ্ঞান) পড়লে অনেক ধরনের পেশায় কাজ করার সুযোগ থাকে। কারণ মনোবিজ্ঞান মানুষের আচরণ, চিন্তা ও মানসিক সমস্যা বোঝার দক্ষতা তৈরি করে।

সাইকোলজি পড়ে যে পেশাগুলো করা যায় তাহলোঃ

  1. ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টঃ মানসিক রোগের চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং করা যাবে।
  2. কাউন্সেলরঃ ব্যক্তিগত সমস্যা, স্ট্রেস ও সম্পর্কের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে পারবেন।
  3. শিক্ষক/লেকচারারঃ  স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে পারেন টিচার হিসাবে।
  4. এইচআর (Human Resource) কোম্পানিতে কর্মীদের আচরণ ও ব্যবস্থাপনা নিজের আয়ত্তে রাখা।
  5. রিসার্চার (গবেষক)  মানুষের আচরণ,মন,ও স্বভাব নিয়ে গবেষণা করা যেতে পারে। 
  6. স্কুল সাইকোলজিস্টঃ শিক্ষার্থীদের মানসিক উন্নয়নে হিসাবে কাজ করা।
  7. সামাজিক কর্মী (Social Worker)  সমাজের বিভিন্ন সমস্যায় কাজ করেন
  8. মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপনঃ মানুষের মন বোঝা কাজে লাগে
  9. আইন ও ক্রিমিনাল জাস্টিসঃ অপরাধীর মনস্তত্ত্ব বোঝা 

সাইকোলজি পড়ে আপনি মানুষের মন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন পেশায় যেতে পারবেন, যেমন ডাক্তার, কাউন্সেলর, শিক্ষক বা কর্পোরেট জব।

বিশ্বের সেরা তিন মনোবিজ্ঞানী কেঃ

মনোবিজ্ঞান ও ইতিহাসের অবদানের উপর ভিত্তি করে বিশ্বের সেরা মনোবিজ্ঞানী বের করা খুবই কষ্টকর একটা কাজ। কিন্তু বর্তমানকে সামনে রেখে কিছু মনোবিজ্ঞানীর কথা ও খোঁজ পাওয়া গেছে।

“বিশ্বের সেরা” মনোবিজ্ঞানী নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন, তবে ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী তিনজন মনোবিজ্ঞানী হিসেবে সাধারণত যাদের নাম বেশি বলা হয় তারা হলো

  • সিগমুন্ড ফ্রয়েড

  1. সাইকোঅ্যানালাইসিস তত্ত্বের জনক
  2. মানুষের অবচেতন মন (unconscious mind) নিয়ে কাজ করেছেন
  3. স্বপ্ন, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক রোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেন

  • কার্ল ইয়ুং

  1. ফ্রয়েডের শিষ্য ছিলেন
  2. “Collective unconscious” ও ব্যক্তিত্বের ধরন (introvert/extrovert) নিয়ে কাজ করেন
  3. আধুনিক মনোবিজ্ঞানে বড় অবদান

  •  বি. এফ. স্কিনার

  1. Behaviorism তত্ত্বের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব
  2. মানুষের আচরণ কীভাবে পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তা ব্যাখ্যা করেন

এরা হচ্ছে বিশ্বের নাম করা বৈজ্ঞানী। এরা সেই ব্যাক্তি যারা মানুষের মন বোঝার ক্ষমতা আবেগ বিবেক আচারণ,ও আরো অনেক কিছু খোঁজ দিয়ে গেছেন। যেটির জন্য এদেরকে বিশ্বের সেরা বৈজ্ঞানী হিসাবে গণনা করা হয়।

লেখকের মন্তব্যঃ

আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন মানুষের মন বোঝার জন্য সাইকোলজির বাংলা অর্থ কি ও কিভাবে কাজ করে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে সাইকোলজির এর কাজ কি।

প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।

আরো কিছু জানতে বা শিখতে চাইলে ভিজিট করুন............... www.stylishsm.com



( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )














এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।

comment url