কিভাবে চুল পড়া বন্ধ হয় - চুল পড়া বন্ধ করার ভিটামিন? বিস্তারিতভাবে জানুন?

আজকে আমরা জানবো যে আমাদের যত্ন নেওয়া ক্ষেত্রে কিভাবে চুল পড়া বন্ধ হয় ও কিভাবে চুলকে সিল্কি করা যায়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে চুল পড়া বন্ধ করার ভিটামিন কি কি হয়ে থাকে। যেটি ব্যবহার করলে আমাদের চুল ভাল থাকবে। আসুন জানি?

ভূমিকাঃ

আজকের দিনে বেশির ভাগ দেখা যায় যে অধিকাংশ মানুষ তার চুল পড়া নিয়ে খুব সমস্যাই আছেন। সেটি ছেলে হতে পারে কিংবা মেয়ে হতে পারে। চুল মানুষের একটা স্টাল ও পার্সোনালিটি হিসাবে কাজ করে। চুল না থাকলে কত কি একটা মানুষকে সহ্য করতে হয়, সেটি একমাত্র সেই জানে।

তাই আসুন জেনে রাখি যে, চুল সুন্দর ও সিল্কি রাখার জন্য কিভাবে চুল পড়া বন্ধ হয় সে থেরাপি গুলো কি কি। ও তার সাথে সাথে এটাও জানুন যে চুল পড়া বন্ধ করার ভিটামিন কি কি হয়। যেটি ব্যবহার করলে আমাদের চুল ভাল থাকবে। নিম্নে বিস্তারিত.........?

কিভাবে চুল পড়া বন্ধ হয়ঃ

চুল পড়া বন্ধ করতে হলে আগে কারণটা বুঝতে হবে স্ট্রেস, পুষ্টির ঘাটতি, খুশকি, হরমোন সমস্যা বা বংশগত কারণ এর যেকোনোটা হতে পারে। তবে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে চুল পড়া অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রতিদিন ডিম, মাছ, ডাল, সবুজ শাকসবজি, বাদাম ও ফল খেলে চুলের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন পাওয়া যায়। বিশেষ করে ভিটামিন ডি, বি-কমপ্লেক্স ও আয়রন ঘাটতি থাকলে চুল বেশি পড়ে।

নিজের শরীরের স্ট্রেস কমান। অতিরিক্ত টেনশন চুল পড়ার বড় কারণ। পর্যাপ্ত ঘুম (৭–৮ ঘণ্টা) খুব জরুরি। সঠিকভাবে চুলের যত্ন নিন। সপ্তাহে ২–৩ বার মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত কেমিক্যাল, হেয়ার কালার বা হিট (স্ট্রেইটনার/ড্রায়ার) কম ব্যবহার করুন। ভেজা চুলে জোরে আঁচড়াবেন না এর সাথে তেল ম্যাসাজ করুন। নারিকেল তেল বা আমলকি তেল হালকা গরম করে সপ্তাহে ১–২ দিন মাথায় ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।

যদি হঠাৎ করে অতিরিক্ত চুল পড়তে শুরু করে বা মাথায় ফাঁকা জায়গা দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ অনেক সময় থাইরয়েড বা হরমোনজনিত সমস্যাও থাকতে পারে।

চুল পড়া বন্ধ করার ভিটামিনঃ

চুল পড়া বন্ধ করতে কিছু নির্দিষ্ট ভিটামিন ও খনিজ উপাদান খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে আগে জানা দরকার ঘাটতি থাকলেই সাপ্লিমেন্ট কাজে দেয়, অকারণে খেলে লাভ নাও হতে পারে। নিচে প্রয়োজনীয়গুলো সহজভাবে দেওয়া হলো পড়ে নিন?

১) ভিটামিন ডি

ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে চুল পাতলা হতে পারে। রোদে ১৫–২০ মিনিট থাকা ও প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট উপকারী হতে পারে (ডাক্তারের পরামর্শে)।

২) ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স (বিশেষ করে বায়োটিন – B7)

বায়োটিন চুলের গঠন মজবুত করতে সাহায্য করে। তবে সবার জন্য আলাদা করে বায়োটিন দরকার হয় না ঘাটতি থাকলেই বেশি উপকার।

৩) আয়রন

আয়রনের অভাবে (বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে) চুল পড়া বাড়ে। রক্তশূন্যতা থাকলে আয়রন সাপ্লিমেন্ট দরকার হতে পারে।

৪) জিঙ্ক

জিঙ্ক চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং খুশকি কমাতেও ভূমিকা রাখে।

৫) ভিটামিন ই

স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

আপনি চাইলে এইগুলো ব্যবহার করতে পারেন চুল পড়া থেকে মুক্ত পেতে।

চুল পড়া বন্ধ করার ঔষধের নামঃ

চুল পড়া বন্ধ করার ওষুধ কারণভেদে আলাদা হয়। তাই আগে বুঝতে হবে এটা কি বংশগত টাক (androgenetic alopecia), পুষ্টির ঘাটতি, নাকি অন্য কোনো হরমোনের সমস্যা। নিচে সাধারণভাবে ব্যবহৃত কিছু ওষুধের নাম দেওয়া হলো?

১) মিনোক্সিডিল (Minoxidil)

এটি লোশন বা ফোম আকারে মাথার ত্বকে ব্যবহার করা হয় (২% বা ৫%)। পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। নিয়মিত ব্যবহার করলে নতুন চুল গজাতে ও চুল পড়া কমাতে সাহায্য করতে পারে।

২) ফিনাস্টেরাইড (Finasteride)

মূলত পুরুষদের বংশগত চুল পড়ার ক্ষেত্রে ট্যাবলেট হিসেবে দেওয়া হয়। এটি হরমোনজনিত কারণে চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়।

৩) বায়োটিন ও মাল্টিভিটামিন সাপ্লিমেন্ট

যদি ভিটামিনের ঘাটতি থাকে, তাহলে বায়োটিন, ভিটামিন ডি, আয়রন বা জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হতে পারে।

অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়ঃ

অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করতে কিছু কার্যকর ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথমত, সপ্তাহে ১–২ দিন হালকা গরম নারিকেল তেল, আমলকি তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে মাথার ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়। দ্বিতীয়ত, পেঁয়াজের রস বা অ্যালোভেরা জেল স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ২০–৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে চুল পড়া কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তৃতীয়ত, মেথি ভিজিয়ে পেস্ট করে মাথায় ব্যবহার করলে চুলের পুষ্টি বাড়ে। পাশাপাশি নিয়মিত ডিম, মাছ, ডাল, শাকসবজি ও ফলমূল খেলে শরীরের ভিটামিন ও প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ হয়, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানোও খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্ট্রেস চুল পড়ার বড় কারণ হয়ে থাকে, এ ছাড়া ভিজা চুল কখনো জোরে আচড়াবেন না। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়ে বা মাথায় ফাঁকা জায়গা দেখা যায়। তাহলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চুলে কি দিলে চুলপড়া বন্ধ হয়ঃ

চুলে কী দিলে চুলপড়া কমে—এটা পুরোপুরি নির্ভর করে চুল পড়ার কারণের ওপর। তবুও কিছু জিনিস নিয়মিত ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায় চুলের ক্ষেত্রে। নারিকেল তেল হালকা গরম করে সপ্তাহে ১–২ বার মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং শুষ্কতা কমে। এ ছাড়া অ্যালোভেরা জেল সরাসরি গাছের জেল স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ২০–৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে খুশকি ও চুল পড়া কমাতে সাহায্য করতে পারে।

চুল পড়া বন্ধ করার ক্ষেত্রে পেঁয়াজের রস খুবই কার্যকর। এতে সালফার থাকে, যা চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সহায়তা করে। সপ্তাহে ১ বার ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া মেথি পেস্ট। মেথি ভিজিয়ে পেস্ট বানিয়ে মাথায় লাগালে চুলের পুষ্টি বাড়ে ও ভাঙা কমে। চুল পড়া বন্ধ করতে হলে বেশী রৌদে থাকা যাবে না। বেশি রৌদে থাকলে আমাদের মাথা গরম হয়ে থাকে, যার প্রভাব আমাদের চুলে আসে পড়ে। তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজেকে মানিয়ে চলতে হয়।

মহিলাদের চুল পড়ার প্রধান কারণ কিঃ

মহিলাদের চুল পড়ার প্রধান কারণ একাধিক হতে পারে, তবে সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলো হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি ও মানসিক চাপ। নারীদের শরীরে হরমোনের ওঠানামা (যেমন—গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মের পর, মেনোপজ বা পিসিওএস) চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্রে প্রভাব ফেলে এবং এতে চুল বেশি পরিমাণে পড়তে পারে। এছাড়া আয়রনের ঘাটতি ও রক্তশূন্যতা মহিলাদের চুল পড়ার বড় কারণ। অনেক সময় ডায়েটিং, 

অপুষ্টিকর খাবার বা ভিটামিন ডি ও বি-কমপ্লেক্সের ঘাটতির কারণেও চুল দুর্বল হয়ে যায়। অতিরিক্ত স্ট্রেস, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, থাইরয়েড সমস্যা, খুশকি বা স্ক্যাল্পের সংক্রমণও চুল পড়া বাড়াতে পারে। আবার বারবার চুলে কেমিক্যাল ব্যবহার, স্ট্রেইটেনিং, কালার, চুলে হিট, চুল সাইনিং করা, বা শক্ত করে চুল বাঁধাও চুল ভেঙে পড়ার কারণ হতে পারে। তাই সঠিক সময়ে নিজের চুলের যত্ন নিলে চুল ভাল থাকবে ও আপনার স্টাইল সর্বদা আপনার সঙ্গে থাকবে।

কিভাবে চুল সোজা করা যায়ঃ

চুল সোজা করার জন্য ঘরোয়া ও পার্লার দুই ধরনের পদ্ধতি আছে। ঘরে প্রাকৃতিকভাবে করতে চাইলে নারিকেল দুধ ও লেবুর রস মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ৩০–৪০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে চুল কিছুটা মসৃণ ও সোজা দেখায়। অ্যালোভেরা জেল ও অলিভ অয়েল মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়, যা চুল নরম করে। নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার ও ঠান্ডা বাতাসে ব্লো-ড্রাই করলে চুল তুলনামূলক সোজা থাকে।

তবে দ্রুত ও বেশি সময়ের জন্য সোজা করতে চাইলে স্ট্রেইটনার ব্যবহার করা হয়, কিন্তু তাপ বেশি দিলে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই হিট প্রটেক্টর ব্যবহার করা জরুরি। স্থায়ীভাবে সোজা করতে পার্লারে কেমিক্যাল রিবন্ডিং বা কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করা হয়। তবে এতে কেমিক্যাল থাকায় আগে ভালোভাবে পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত যত্ন ও পুষ্টিকর খাবার চুলকে স্বাস্থ্যকর ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।

লেখকের মক্তব্যঃ

আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন চুলের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে কিভাবে চুল পড়া বন্ধ হয়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে চুল পড়া বন্ধ করার ভিটামিন কি কি হয়।

প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।

আরো কিছু জানতে বা শিখতে চাইল ভিজিট করুন............... www.stylishsm.com



( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।

comment url