বাইনান্স থেকে ডলার কেনার নিয়ম - বাইনান্স একাউন্ট খোলার নিয়ম? বিস্তারিত জেনে নিন?

আজকে আমরা জানবো যে অনলাইনে ইনকাম করার ক্ষেত্রে এই বাইনান্স থেকে ডলার কেনার নিয়ম কি ও কিভাবে কিনতে হয়। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে বাইনান্স একাউন্ট খোলার নিয়ম কি ও এই একাউন্ট খোলার জন্য কি কি প্রয়োজন হয়। আসুন জানি?

ভূমিকাঃ

আজকের দিনে অনলাইনে টাকা ইনকাম করার বিষয়টা অনেক সহজ হয়ে গেছে। এখন যে কেউ অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করে নিচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি। কেউ ফিল্যান্সিং করে কেউ ট্রেডিং করে আরো অনেক সেক্টর আছে। যেখানে আছে অন্ধ টাকা। শুধু নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে ইনকাম করা জানতে হবে।

তাই আসুন জেনে রাখি যে, এই অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য বাইনান্স থেকে ডলার কেনার নিয়ম কি তা জানুন। ও তার সাথে সাথে এটাও জানুন যে বাইনান্স একাউন্ট খোলার নিয়ম কি ও একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে। নিম্নে বিস্তারিত.........?

বাইনান্স থেকে ডলার কেনার নিয়মঃ

বাইনান্স থেকে ডলার (USDT) কেনার নিয়ম সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে বলছি চিল থাকো। নিম্নে দেখুন?

১) বাইনান্সে অ্যাকাউন্ট খুলুনঃ

প্রথমে Binance অ্যাপে বা ওয়েবসাইটে গিয়ে Sign Up করুন। ইমেইল/মোবাইল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন শেষে KYC ভেরিফিকেশন (জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট) কমপ্লিট করতে হবে।

২) P2P সেকশনে যানঃ

লগইন করার পর P2P Trading অপশনে ঢুকুন। এখানে মানুষে-মানুষে লেনদেন হয়, মানে সরাসরি বিক্রেতার কাছ থেকে USDT কিনবেন।

৩) USDT সিলেক্ট করুনঃ

কারেন্সি হিসেবে USDT বেছে নিন। পেমেন্ট মেথডে সাধারণত ব্যাংক ট্রান্সফার বা নির্দিষ্ট অপশন দেখাবে। আপনি চাইলে বিকাশ, নগদ, ও রকেট ব্যবহার করতে  পারেন (দেশভেদে আলাদা হতে পারে)।

৪) বিশ্বাসযোগ্য সেলার বাছাই করুনঃ

রেটিং ভালো, বেশি ট্রেড করা—এমন সেলার সিলেক্ট করুন। রেট, লিমিট আর শর্ত ভালো করে পড়ে নিন।
৫) টাকা পাঠানঃ

সেলার যে ব্যাংক/পেমেন্ট তথ্য দেবে, সেখানে ঠিকঠাক টাকা পাঠান। টাকা পাঠানোর পর অ্যাপে “Transferred” বাটনে ক্লিক করুন। প্রয়োজনে পেমেন্ট মেথড স্কিনশর্ট নিয়ে রাখবেন।

৬) USDT রিসিভ করুন

সেলার টাকা কনফার্ম করলে USDT আপনার Binance Wallet-এ চলে আসবে। ব্যস, কাজ শেষ। এইভাবে আপনি ডলার কিনতে পারবেন।

বাইনান্স একাউন্ট খোলার নিয়মঃ

বাইনান্স (Binance) একাউন্ট খোলার নিয়ম একদম সহজ ধাপে ধাপে বলছি দেখে নাও?

১) বাইনান্স অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে যানঃ

প্রথমে গুগল প্লে স্টোর / অ্যাপ স্টোর থেকে Binance App ডাউনলোড করুন অথবা সরাসরি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যাও।

২) সাইন আপ করুনঃ

Sign Up / Register এ ক্লিক করে ইমেইল বা মোবাইল নাম্বার দিন। একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সেট করুন।

৩) ভেরিফিকেশন কোড দিনঃ

ইমেইল বা ফোনে যে Verification Code আসবে, সেটি দিয়ে একাউন্ট অ্যাক্টিভ করে যুক্ত করুন

৪) KYC ভেরিফিকেশন করুনঃ

লগইন করার পর Identity Verification (KYC) করতে হবে। এখানে,

জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স

নিজের একটি পরিষ্কার ছবি (Selfie)

সাবমিট করতে হবে।

৫) টু-ফ্যাক্টর সিকিউরিটি চালু করুনঃ

নিরাপত্তার জন্য Google Authenticator বা SMS 2FA অন করুন। এটা খুবই ইম্পর্ট্যান্ট।

৬) একাউন্ট রেডি

KYC অনুমোদন হলে আপনার Binance একাউন্ট পুরোপুরি রেডি। এখন চাইলে ট্রেডিং, P2P বা অন্য ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন।

বাইনান্সে ১ ডলার বিনিয়োগ করা যাবেঃ

হ্যাঁ, বাইনান্সে ১ ডলার বিনিয়োগ করা যায়, তবে কিছু শর্ত আর বাস্তব সীমাবদ্ধতা আছে সেটা জানা জরুরি। বাইনান্সে অনেক কয়েনের মিনিমাম ট্রেড লিমিট খুব কম, তাই টেকনিক্যালি ১ ডলার দিয়ে ক্রিপ্টো কেনা সম্ভব। বিশেষ করে USDT দিয়ে Spot Trading বা Convert অপশন ব্যবহার করলে ছোট অঙ্কের ট্রেড করা যায়।

P2P মার্কেটে সাধারণত ৫–১০ ডলারের নিচে কেনা যায় না সেলার লিমিটের কারণে। আবার ট্রেডিং ফি আছে (প্রায় 0.1%), তাই ১ ডলারে প্রফিট খুবই সামান্য হবে। আপনি চাইলে ১–২ ডলার দিয়ে শেখার জন্য প্র্যাকটিস করতে পারেন—যেমন ট্রেড কিভাবে হয়, মার্কেট কিভাবে মুভ করে। আপনি এইগুলো শিখতে পারবেন।

বাইনান্স দিয়ে ট্রেড করা যাবেঃ

হ্যাঁ, বাইনান্স দিয়ে ট্রেড করা যাবে এটা একদম নিশ্চিত। বাইনান্স হলো বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে স্পট মার্জিন সহকারে সহজেই ক্রিপ্টো কেনা–বেচা করা যায়। একাউন্ট খুলে KYC ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করলে আপনি ট্রেড শুরু করতে পারবেন।

স্পট ট্রেডিংঃ কয়েন কিনে রেখে পরে বেশি দামে বিক্রি করা (বিগিনারদের জন্য বেস্ট)

কনভার্ট ট্রেডঃ সহজভাবে এক কয়েন থেকে আরেক কয়েনে বদল করা যায়।

P2P ট্রেযায়ঃ সরাসরি মানুষের কাছ থেকে USDT কেনা–বেচা সম্ভব।

ফিউচার ট্রেডিংঃ লিভারেজসহ ট্রেড (রিস্ক বেশি, নতুনদের জন্য রেকমেন্ডেড না)

শুরু করার আগে কিছু ইম্পর্ট্যান্ট কথাঃ

শুরুতে ছোট টাকা দিয়ে শুরু করুন

আগে স্পট ট্রেডিং শিখুন

লোভে পড়ে ফিউচারে ঢুকবেন না

সবসময় নিজের ঝুঁকি নিজে বুঝে নিন

বাইনান্স ট্রেডিং কি হালালঃ

বাইনান্স ট্রেডিং হালাল কি না এটি আপনার উপর ও ট্রেডিংয়ের ধরন ও পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে অনেক ইসলামি আলেমের মতে, যদি আপনি স্পট ট্রেডিং করেন অর্থাৎ নিজের টাকায় বাস্তবভাবে ক্রিপ্টো কিনে রেখে পরে বেশি দামে বিক্রি করেন, সুদ (রিবা), জুয়া (মাইসির) ও অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা (ঘরার) এড়িয়ে চলেন। তাহলে এটি অনেকের দৃষ্টিতে হালাল হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে ফিউচার ট্রেডিং, মার্জিন ট্রেডিং, লিভারেজ ব্যবহার বা সুদভিত্তিক ফি থাকলে সেগুলোতে হারাম টাকার সম্ভাবনা বেশি বলে অনেক আলেম এটি হারাম বলেছেন। তাই বাইনান্সে ট্রেডিং করতে চাইলে স্পট ট্রেডিংয়ে সীমাবদ্ধ থাকা, সুদযুক্ত অপশন এড়িয়ে চলা এবং নিজের ধর্মীয় জ্ঞানী আলেমের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

বাইনান্স এর কাজ কিঃ

বাইনান্সের কাজ হলো একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মানুষকে ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনা, বিক্রি ও ট্রেড করার সুযোগ দেওয়া। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বিটকয়েন, ইথেরিয়ামসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মুদ্রা সহজে লেনদেন করতে পারে। বাইনান্স ব্যবহার করে স্পট ট্রেডিং, কনভার্ট, পি-টু-পি (P2P) ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি অন্য ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ক্রিপ্টো কেনা–বেচা করা যায়। 

এছাড়া বাইনান্স নিরাপদ ওয়ালেট সুবিধা, বাজারের দাম দেখার অপশন, ট্রেডিং চার্ট ও বিভিন্ন আর্থিক টুল দিয়ে ব্যবহারকারীদের ক্রিপ্টো বাজার বুঝতে ও বিনিয়োগ পরিচালনায় সহায়তা করে। সংক্ষেপে, বাইনান্স হলো ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন ও ব্যবস্থাপনার একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। যেখানে আপনি টাকা লাগিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

ফরেক্স ট্রেডিং কি বাংলাদেশে বৈধঃ

ফরেক্স ট্রেডিং বাংলাদেশে সরাসরি বৈধ নয়। এটা বুঝতে হলে দুটি দিক জানা জরুরি বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বিডিআরএ (Bangladesh Bank/BSEC) সরাসরি অনুমোদন ছাড়া বিদেশি ফরেক্স ব্রোকার বা অনলাইন ফরেক্স ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে টাকা দিয়ে ট্রেড করা আইনি বৈধ বলে গণ্য হয় না। অর্থাৎ বাংলাদেশে বহির্বিভাগীয় ফরেক্স ব্রোকারের সঙ্গে সরাসরি ট্রেড করা সরকার অনুমোদন দেয় না, এবং এমন লেনদেনে আইনি সুরক্ষা থাকে না।

যদিও এরকম মার্কেটে অনেক মানুষ অনলাইনে ইউটিএম বা পেপার ট্রেড ব্যবহার করে শিখে থাকে, বাস্তবে টাকা বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশে স্বীকৃত ও প্রত্যক্ষভাবে বৈধ নয়। ফরেক্স ট্রেডিং বা বৈদেশিক মুদ্রা কেনা-বেচা মানি লন্ডারিংয়ের আওতায় পড়তে পারে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক সংস্থাগুলো থেকে অনুমোদন ছাড়া বিদেশি মুদ্রা লেনদেন/ ট্রেডিং করা বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয় না এবং এতে ঝুঁকি ও আইনি জটিলতা থাকতে পারে। তাই ফরেক্স ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে আইনি দিকটা ভালোভাবে বুঝে নেওয়া, বৈধ অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম ও পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

লেখকের মক্তব্যঃ

আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন অনলাইনে টাকা ইনকাম করার জন্য বাইনান্স থেকে ডলার কেনার নিয়ম কি। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে বাইনান্স একাউন্ট খোলার নিয়ম কি।

প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।

আরো কিছু জানতে বা শিখতে চাইলে ভিজিট করুন............... www.stylishsm.com



( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।

comment url