অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো - অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়? বিস্তারিত জানুন?

আজকে আমরা জানবো যে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো। ও তার সাথে সাথে এটাও জানবো যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার নিয়মগুলো কি কি হয়ে থাকে। যেটি ব্যবহার করে সবাই টাকা ইনকাম করে। আসুন জানি?

ভূমিকাঃ

আজকের দিনে দেখেন সবাই ছোট হোক কিংবা বড় কমবেশি অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা ইনকাম করে সবাই সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সবাইকে শেয়ার করে। আপনি যদি আপনার কিছু সময় এই অনলাইনে দিতে পারেন যেকোনো প্লাটফর্মে। তাহলে এক সময় দেখবেন আপনি কিছু হলেও শিখেছেন।

তাই আসুন জেনে রাখি যে, অনলাইন ব্যবহার করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো ও কি কি করা লাগে। ও তার সাথে সাথে এটাও জানুন যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় কিভাবে করা যায়। নিম্নে বিস্তারিত.........?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবোঃ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা কঠিন না, কিন্তু স্মার্টভাবে শুরু করতে হলে প্রথমে বুঝে নিন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মানে হলো অন্যের পণ্য প্রচার করে কমিশন আয় করা। কেউ আপনার দেওয়া লিংক দিয়ে পণ্য কিনলে আপনি নির্দিষ্ট শতাংশ টাকা পাবেন। শুরু করার ধাপগুলো নিম্নে দেখুন?

১) একটি নির্দিষ্ট বিষয় (নিশ) বেছে নিন।

যেমন—মোবাইল গ্যাজেট, ফ্যাশন, বই, কসমেটিক, স্বাস্থ্যপণ্য ইত্যাদি। যেটা সম্পর্কে আপনার আগ্রহ ও কিছু ধারণা আছে, সেটাই বেছে নিন।

২) অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যোগ দিন।

দারাজ, অ্যামাজনসহ বিভিন্ন কোম্পানির অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম আছে। সেখানে সাইন আপ করে অনুমোদন পেলে আপনি ইউনিক লিংক পাবেন যেকোনো পূণ্য বিক্রি করার জন্য।

৩) প্ল্যাটফর্ম বেছে নিন।

  1. ফেসবুক পেজ
  2. ইউটিউব চ্যানেল
  3. ব্লগ/ওয়েবসাইট
  4. টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম
  5. আপনি এই সব সোশাল মিডিয়ায় প্রচার করতে পারবেন।

৪) ভালো কনটেন্ট তৈরি করুন

শুধু লিংক দিলেই হবে না। রিভিউ, তুলনা, ব্যবহার অভিজ্ঞতা এভাবে বিশ্বাসযোগ্য কনটেন্ট বানান। মানুষ উপকার পেলে আপনার লিংক থেকে কিনবে।

৫) নিয়মিত কাজ ও ধৈর্য রাখুন

শুরুর দিকে আয় কম হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত কাজ করলে ধীরে ধীরে আয় বাড়ে। কাজ করার ক্ষেত্রে কখনো কাস্টমারকে ভুয়া প্রতিশ্রুতি দেবেন না ও নিজের ব্যবহার না জানা পণ্য প্রচার করবেন না। এই গুলো মাথায় রেখে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়ঃ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করা যায়, এক কথায় বলতে অন্যের পণ্য বা সেবা প্রচার করে কমিশন পাওয়ার মাধ্যম। সহজভাবে বললে, আপনি কোনো কোম্পানির পণ্যের বিশেষ লিংক শেয়ার করবেন, আর সেই লিংক দিয়ে কেউ কিছু প্রোডাক্ট কিনলে আপনি নির্দিষ্ট শতাংশ টাকা পাবেন।

আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের ওপর—(১) আপনি কতজন মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছেন, (২) তারা কতটা আপনার কথা বিশ্বাস করছে, এবং (৩) পণ্যের কমিশন রেট কত। কিছু প্রোগ্রামে ৩–৫% কমিশন দেয়, আবার কিছু ডিজিটাল পণ্যে ২০–৫০% পর্যন্ত কমিশন পাওয়া যায়

ধরুন, আপনি ১০,০০০ টাকার একটি পণ্য প্রচার করলেন এবং কমিশন ১০%—তাহলে প্রতি বিক্রিতে ১,০০০ টাকা আয় করতে পারেন। কিন্তু নিয়মিত আয় করতে হলে শুধু লিংক শেয়ার করলেই হবে ন। দরকার ভালো কনটেন্ট, সঠিক অডিয়েন্স এবং ধারাবাহিক কাজ।

অনেকে ফেসবুক পেজ, ইউটিউব, ব্লগ, টিকটক বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করে। তবে শুরুতে আয় কম হতে পারে কিন্তু ধৈর্য আর নিয়মিত কাজই এখানে আসল চাবিকাঠি।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য কোন বিষয়ে জানা প্রয়োজনঃ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে শুধু লিংক শেয়ার করলেই হয় না কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভালোভাবে জানা দরকার। আপানার ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। যেমন—সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, কনটেন্ট মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং ইত্যাদি। তারপরে আপনি এজটা নিশ (Niche) বেছে নিন যেটি নিয়ে আপনি কাজ করতে চাচ্ছেন। যেমনঃ টেক, ফ্যাশন, হেলথ, অনলাইন কোর্স, মেয়েদের প্রোডাক্ট, যেটি আপনার ভাল মনে হয়।

সব কিছু একসাথে করলে ফোকাস থাকে না। তাই যেকোনো একটা জিনিসের উপরে ফোকাস দিবেন। আপনার কনটেন্ট তৈরি করার দক্ষতা থাকা দরকার কিছুটা। ভালো পোস্ট, রিভিউ, ভিডিও বা ব্লগ লিখতে পারলে মানুষ আপনার কথায় বিশ্বাস করবে এবং লিংক থেকে যেকোনো প্রোডাক্ট কিনবে।

এসইও (SEO) সম্পর্কে বেসিক ধারণা থাকা ভালো। গুগলে কিভাবে কনটেন্ট র‍্যাংক করানো যায় সেটা জানা থাকলে ফ্রি ট্রাফিক পাওয়া যায়। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে লিংক দ্বারা ও গুগোলের অ্যাড দেখিয়ে আয় করতে পারবেন। ট্রাফিক জেনারেশন ও অডিয়েন্স বিল্ডিং জানা প্রয়োজন।

ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল, ওয়েবসাইট বা টিকটক যে প্ল্যাটফর্মে কাজ করবেন, সেখানে নিয়মিত অডিয়েন্স তৈরি করতে হবে। সবশেষে, ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা সবচেয়ে বড় বিষয়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে একদিনে ইনকাম হয় না সময়, শেখা আর নিয়মিত কাজ দরকার। তাহলে আপনি এক সময়ে ঠিক  সাফল্যর চাবিকাঠি পাবেন।

 এর সুবিধা কি কিঃ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের বেশ কিছু বড় সুবিধা আছে, বিশেষ করে যারা কম পুঁজি দিয়ে অনলাইনে কাজ শুরু করতে চান তাদের জন্য। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করলে অনেক সুবিধা আছে যেমনঃ কম খরচে ব্যবসা শুরু করা যায়। নিজের পণ্য তৈরি বা স্টক রাখার দরকার নেই। শুধু অন্য কোম্পানির পণ্য প্রচার করলেই হয়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করলে ঝুঁকি কম থাকে। পণ্য ডেলিভারি, কাস্টমার সার্ভিস বা রিটার্ন এসব কোম্পানিই সামলায়। আপনার কাজ শুধু প্রচার করা নিজ স্বাধীনভাবে। আপনি চাইলে ঘরে বসে কাজ করতে পারবেন। নির্দিষ্ট অফিস বা সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই। ইন্টারনেট থাকলেই যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করা সম্ভব।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করলে আপানার প্যাসিভ ইনকামের সুযোগ বেড়ে যায়। একবার ভালো কনটেন্ট তৈরি করলে সেটি দীর্ঘ সময় ধরে কমিশন এনে দিতে পারে। শুরুতে ছোটভাবে শুরু করে ধীরে ধীরে একাধিক প্ল্যাটফর্ম ও পণ্য নিয়ে কাজ বাড়ানো যায়। আসতে আসতে সাফল্য আসবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি হালালঃ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হালাল কি না এটি নির্ভর করে আপনি কী ধরনের পণ্য বা সেবা প্রচার করছেন এবং কীভাবে কাজটি করছেন তার ওপর। যদি আপনি বৈধ ও শরিয়তসম্মত পণ্য (যেমন শিক্ষামূলক কোর্স, হালাল ব্যবসার পণ্য, প্রযুক্তি সামগ্রী ইত্যাদি) সৎভাবে প্রচার করেন, মিথ্যা তথ্য বা প্রতারণা না করেন এবং সুদভিত্তিক বা হারাম কার্যক্রমে জড়িত না থাকেন।

তাহলে অনেক আলেমের মতে এটি হালাল হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে যদি হারাম পণ্য, জুয়া, সুদভিত্তিক সেবা বা প্রতারণামূলক কিছু প্রচার করা হয়, তাহলে তা হারাম হবে। তাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে পণ্যের বৈধতা, স্বচ্ছতা ও নৈতিক দিক নিশ্চিত করা জরুরি, এবং প্রয়োজনে কোনো আলেমের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইটঃ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট হলো এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পণ্য বা সেবা প্রচারের জন্য অ্যাফিলিয়েটদের কমিশন দেয়। আপনি সেই ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে বিশেষ লিংক (Affiliate Link) পাবেন, আর সেই লিংক দিয়ে কেউ কিনলে আপনি কমিশন পাবেন। বাংলাদেশে কিছু জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট রয়েছে যেমনঃ

Amazon Associates – অ্যামাজনের পণ্য প্রচার করে কমিশন আয় করা যায়।

ClickBank – মূলত ডিজিটাল পণ্য (ই-বুক, কোর্স) প্রচারের জন্য পরিচিত।

Digistore24 – আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্রোডাক্ট মার্কেটপ্লেস।

CJ Affiliate (Commission Junction) – বড় বড় ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করার সুযোগ দেয়।

Daraz Affiliate Program – বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় জনপ্রিয়।

অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইটে কাজ করতে হলে সাধারণত সাইন আপ করতে হয়, তারপর অনুমোদন পেলে লিংক শেয়ার করে আয় করা যায়। তবে সফল হতে হলে ভালো কনটেন্ট, সঠিক অডিয়েন্স ও ধৈর্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে কাজ করেঃ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে আপনি কোনো কোম্পানির পণ্য বা সেবা প্রচার করেন এবং আপনার দেওয়া বিশেষ লিংকের মাধ্যমে কেউ কিছু কিনলে আপনি কমিশন পান। প্রথমে একটি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে সাইন আপ করলে আপনাকে একটি ইউনিক অ্যাফিলিয়েট লিংক দেওয়া হবে। এরপর আপনি সেই লিংকটি ফেসবুক, ইউটিউব, ওয়েবসাইট বা ব্লগে শেয়ার করেন।

যখন কোনো ব্যক্তি আপনার লিংকে ক্লিক করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য ক্রয় করে, তখন সেই বিক্রয়ের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ কমিশন হিসেবে আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, যাতে বোঝা যায় কোন বিক্রি হলে আপনার লিংক দ্বারা হয়েছে। অর্থাৎ, আপনি পণ্য তৈরি বা ডেলিভারি না করেও শুধু প্রচারের মাধ্যমে আয় করতে পারেন।

লেখকের মক্তব্যঃ

আসা করি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন অনলাইন দ্বারা ইনকাম করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো। ও তার সাথে সাথে এটাও জানলেন যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় কিভাবে করে।

প্রশ্ন থাকলে কিংবা ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন ও শেয়ার করবেন আপনার প্রিয় মানুষের সাথে।

আরো কিছু জনাতে বা শিখতে চাইলে ভিজিট করুন..................www.stylishsm.com



( আপনার প্রিয় ব্লগার স্টাইলিশ )

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্টাইলিশ এস এম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হবে।

comment url